যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পোর্টল্যান্ড থেকে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন শহরগুলোতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ধারাবাহিক আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার মুখে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রিপাবলিকান এই নেতা হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার প্রথম বছরেই অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনের অজুহাতে ডেমোক্র্যাট শাসিত শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন। তবে স্থানীয় নেতাদের তীব্র বিরোধিতা এবং গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শিকাগোতে সৈন্য মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ট্রাম্প প্রশাসন এই পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পোর্টল্যান্ড থেকে ন্যাশনাল গার্ড সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই ‘দেশপ্রেমিক’ সৈন্যদের উপস্থিতির কারণে শহরগুলোতে অপরাধের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।
নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেডারেল সরকার যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করত, তবে এই তিনটি শহরই ধ্বংসের মুখে পতিত হতো। যদিও ডেমোক্র্যাট দলীয় স্থানীয় নেতারা ট্রাম্পের এই সামরিক মোতায়েনকে শুরু থেকেই ‘কর্তৃত্ববাদী সীমালঙ্ঘন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্পের অভিবাসন ও অপরাধ সংক্রান্ত কঠোর নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ন্যাশনাল গার্ডের ব্যবহার। ৭৯ বছর বয়সী এই বিলিয়নেয়ার ইতিপূর্বে ওয়াশিংটন ডিসি এবং টেনেসির মেমফিসে সৈন্য পাঠিয়েছেন এবং সান ফ্রান্সিসকোতেও একই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আদালতের রায়গুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাওয়ায় কৌশলগত কারণে শিকাগোসহ তিনটি শহর থেকে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় শহরগুলোতে পুনরায় অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা ভবিষ্যতে আরও ‘ভিন্ন এবং শক্তিশালী রূপে’ ফিরে আসতে পারেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পিছু হটাকে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরণের রাজনৈতিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি কেবল সাময়িক একটি বিরতি এবং প্রেসিডেন্ট তাঁর নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে অটল রয়েছেন।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আরও বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
সূত্র: এএফপি