শিরোনাম
◈ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তথ্যচিত্রে ত্রুটির বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দুঃখ প্রকাশ ◈ কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা, বহিষ্কার জামায়াতের আরেক নেতা ◈ বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন ◈ চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর ◈ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন স্থগিত: আইনি জটিলতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ প্রযোজকরা ◈ ৪৯ বছর পর জিতল পাকিস্তান ◈ যানজট থেকে ড্রোন—বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত ◈ ভারত আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম চালাতে দিলে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে: শামা ওবায়েদ ◈ হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শর্ত দিল ইরান

প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ দুপুর
আপডেট : ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যেখানে গাড়ি নেই, দৈনন্দিন চলাচল নির্ভর কেবল কারের ওপর

সুইজারল্যান্ডের বার্নিজ ওবারল্যান্ড অঞ্চলের পাহাড়ের কোলঘেঁষা ছোট গ্রাম মারেন। মধ্যযুগীয় এ গ্রামে যাওয়ার কোনো সড়ক নেই। গাড়ি তো নয়ই—বহির্বিশ্বের সঙ্গে এর একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঢালু কেব্‌ল কার ‘শিলথর্নবান’। এই কেব্‌ল কার চালু হওয়ায় পর্যটকরা মাত্র চার মিনিটে ৭৭৫ মিটার ওপরে থাকা গ্রামটিতে পৌঁছাতে পারছেন।

বিবিসিতে প্রকাশিত এক ভ্রমণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা মারেন গ্রামে আগে যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। একসময় গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য পাহাড় বেয়ে তিন ঘণ্টা নিচে নামতে হতো। পরে, ১৮৯১ সালে একটি সরু রেলপথ এবং ১৯৬৫ সালে সিঙ্গেলট্র্যাক কেব্‌লওয়ে চালুর মাধ্যমে কিছু সীমিত সংযোগ গড়ে ওঠে। তবে গাড়ির রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি পাহাড়ের অত্যন্ত খাড়া গঠন ও পরিবেশগত কারণে।

গত বছরের শেষ দিকে ভ্রমণবিষয়ক সাংবাদিক শিখা শাহ মারেন গ্রাম ভ্রমণ করে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানিয়েছেন, লাউটারব্রুনেন থেকে স্টেচেলবার্গ গাড়ি পার্কিং পর্যন্ত পৌঁছে কাচঘেরা কেবিনে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় অপূর্ব এক যাত্রা। কেব্‌ল কারে বসে বরফঢাকা পাইনগাছ ও ছোট কটেজগুলো যেন গল্পের বইয়ের ছবির মতো মনে হচ্ছিল।

১৩ শতকের পুরোনো মারেনে রয়েছে কাঠ ও পাথরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী কটেজ, সরু রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ অতিথিশালা ও রেস্তোরাঁ। এখানে বিখ্যাত চিজ-ড্রাই সসেজসহ সুইস খাবারের বৈচিত্র্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি ছোট দোকানগুলোতে বিক্রি হয় সুইস চকলেট, ঘড়ি ও পোস্টকার্ডসহ নানা স্মারক।

গ্রামের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘হোটেল মারেন প্যালেস’, তৈরি হয় ১৮৭৪ সালে। ‘সুইজারল্যান্ডের প্রথম প্রাসাদ’ হিসেবে পরিচিত এই হোটেলে একসময় স্কি–জগতের তারকা এবং হলিউড অভিনেত্রী রিটা হেওয়ার্থসহ বহু আন্তর্জাতিক অতিথি অবস্থান করেছেন। ২০ শতকে এই হোটেলের বলরুম ছিল ধনীদের আড্ডাকেন্দ্র।

স্কিইংয়ের জন্য বিখ্যাত হলেও মারেন এখন জনপ্রিয় প্যারাগ্লাইডিং গন্তব্যও। স্থানীয় বাসিন্দা বার্নার্ড লানের পরিবার ১৮৯০-এর দশক থেকেই এ গ্রামে পর্যটন বিকাশের সঙ্গে জড়িত। তাঁর প্রপিতামহ হেনরি লান প্রথম ব্রিটিশ পর্যটকদের এখানে নিয়ে আসেন। পরে ১৯৩০ সালে মারেনে চালু হয় দেশের প্রথম স্কি স্কুল। এক বছর পর ১৯৩১ সালে এখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আলপাইন বিশ্ব স্কি চ্যাম্পিয়নশিপ।

স্থানীয়রা জানান, গাড়িহীন এই গ্রামে কেব্‌ল কারই দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। স্কুলে যাওয়া থেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া—সবই কেব্‌ল কারের ওপর নির্ভরশীল। তবু বিচ্ছিন্নতা নয়, ঘনিষ্ঠ সম্প্রদায়ের বন্ধনই মারেনকে করে তুলেছে অনন্য।

সূত্র: জনকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়