আন্তর্জাতিক ডেস্ক :বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতওয়ান বলেছেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী কমান্ডার শহীদ হওয়ার পর এ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী এবং এই প্রতিক্রিয়া হবে ইসরায়েলের জন্য কঠোর ও বেদনাদায়ক।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক আবদুল বারি আতওয়ান মঙ্গলবার রায় আল-ইয়োম–এ প্রকাশিত নিবন্ধে লিখেছেন, এটা আমাদের কাছে অনুমেয় ছিল যে, হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবায়ি–কে নিশানা করা হবে। কারণ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো দিনরাত বৈরুতের আকাশে ঘুরে বেড়ায় এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়েই এটা ঘটানো হবে এমন আশঙ্কা ছিল। ---- পার্সটুডে
আতওয়ান বলেন, ইসরায়েলের এই প্ররোচনামূলক ও প্রদর্শনীমূলক হামলাগুলো প্রমাণ করে যে, তারা অত্যন্ত আতঙ্কে রয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর তরুণ সামরিক কমান্ডারদের সফল নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ বৃহৎ যুদ্ধ নিয়ে তারা ভয়ে আছে। কিন্তু এটা ঘটবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “হিজবুল্লাহর সামরিক নেতৃত্ব অত্যন্ত নীরবে, বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করে এবং তারাই ঠিক করবে কখন ও কোথায় এই হামলার জবাব দেওয়া হবে।”
আতওয়ানের মতে, নেতানিয়াহু চায় হিজবুল্লাহ যেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, যাতে সে লেবাননের বিরুদ্ধে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—এই তিন দিক থেকে বৃহৎ আক্রমণের যৌক্তিকতা দাঁড় করাতে পারে এবং হিজবুল্লাহকে দায়ী করতে পারে। কিন্তু এই কৌশল কার্যকর হবে না, কারণ হিজবুল্লাহ নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ৭ হাজারের বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন
আতওয়ান লিখেছেন, “আলী তাবতাবায়ি হত্যাকাণ্ড এবং গত এক বছরে ইসরায়েলের সাত হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন প্রমাণ করে যে, অস্ত্র ত্যাগ না করার বিষয়ে হিজবুল্লাহর অবস্থান সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। হিজবুল্লাহ বার বার বলেছে, লেবাননের সরকারের বা অন্য কোনো পক্ষের চাপের মুখে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।”
তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি সত্যি হিজবুল্লাহ সত্যিই সামরিকভাবে শেষ গিয়ে থাকে তাহলে ইসরায়েলের হামলা কেন দিন দিন বাড়ছে?”
তিনি বলেন, ইসরায়েলের এই অব্যাহত হামলা ও টার্গেট কিলিং থেকে বোঝা যায়, গত বছরের নভেম্বরে লেবাননের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইসরায়েলি অভিযান ব্যর্থ হয়েছে, বরং হিজবুল্লাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আতওয়ান বলেন, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর মহাসচিব ও শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা করেছে; পেজার বিস্ফোরণের নৃশংস ঘটনাও ঘটিয়েছে, যাতে প্রায় চার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। তবুও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন ভেঙে পড়েনি।
আতওয়ান লিখেছেন, “একজন কমান্ডার শহীদ হলে আরেকজন কমান্ডার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিরোধ জারি রাখে। তাই আলী তাবাতাবায়ির শাহাদাত হিজবুল্লাহকে ভেঙে দিতে পারবে না। হিজবুল্লাহ ‘কমান্ডার-সৃষ্টিকারী’ একটি সংগঠন।”
আব্দুল বারি আতওয়ান বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হিজবুল্লাহ নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং এটা হবে ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অনেকে ভুলে গেছে—ইসরায়েলকে লেবাননে দুইবার পরাজিত করা একমাত্র শক্তি হলো লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। তৃতীয়বারও এ ঘটনা ঘটবে।
গত রোববার ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকার আল-আরিদ স্ট্রিটে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবায়ি শাহাদাতবরণ করেন।