শিরোনাম
◈ ‘আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন’, বিদায়ী বার্তায় ক্ষমা চাইলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ◈ লি‌নেল মে‌সি আবারও বার্সেলোনায় ফিরতে চান ◈ ফেসবুকে সম্পদের বিবরণী দিলেন প্রেস সচিব, করলেন রসিকতাও ◈ ভোট না দিলে ঘর বাড়ি সব পুড়াইয়া ছারখার করে দিব: বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (ভিডিও) ◈ হাসপাতালে বিএনপি নেতা রিজভী ◈ এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা (ভিডিও) ◈ প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদের হিসাব প্রকাশ ◈ ২৯৯ আসনে পৌঁছেছে ব্যালট পেপার, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি সচিব ◈ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ ◈ গাজীপুরের মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০৪ বিকাল
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আফ্রিকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা, মৃত শতাধিক

দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে বন্যায় নদী উপচেপড়া ও অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এতে বহু এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় লিম্পোপো ও এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে বন্যায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়ির ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের সীমান্তসংলগ্ন একটি চেকপোস্ট থেকেও নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। কারণ চারদিক থেকে বন্যার পানি চেকপোস্টটিকে ঘিরে ফেলেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বৃহস্পতিবার লিম্পোপোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে সেখানে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার (১৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, একটি জেলায় ৩৬টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। লিম্পোপোর প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা বলেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

প্রতিবেশী দেশ জিম্বাবুয়েতে চলতি বছরের শুরু থেকে বন্যায় অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে। দেশটিতে এক হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া বহু স্কুল, সড়ক ও সেতু পানির তোড়ে ভেঙে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক তীব্র বর্ষা মৌসুমে সেখানে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে বন্যা, বজ্রপাত, অবকাঠামো ধস এবং দূষিত পানির কারণে ছড়িয়ে পড়া কলেরাজনিত প্রাণহানি।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, দেশজুড়ে দুই লাখের বেশি মানুষ এই দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, বন্যার পানিতে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, যা দারিদ্র্য ও ঘূর্ণিঝড়পীড়িত দেশটিতে ছোট কৃষকদের খাদ্যসংকট আরও বাড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তত সাতটি দেশে বন্যা দেখা দিয়েছে বা আশঙ্কা রয়েছে, যা লা নিনা আবহাওয়া প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এই প্রভাব সাধারণত অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। সেখানে প্লাবিত ক্যাম্প থেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক ও কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নদী উপচেপড়ায় পার্কের বড় অংশ এখন যাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়