শিরোনাম
◈ আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা জানাল বিসিবি ◈ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পক্ষে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বিতর্কে ইসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ হাসনাত আব্দুল্লাহর (ভিডিও) ◈ গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ৩৩০ সন্ত্রাসীর চট্টগ্রামে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ, গণবিজ্ঞপ্তি জারি ◈ ঢাকা ক‌্যা‌পিটাল‌সের বিদায়, ‌বি‌পিএ‌লের প্লে-অফে রংপুর রাইডার্স  ◈ ইসরায়েলি সমর্থকদের মা‌ঠে ঢুক‌তে না দেয়ায় চাকরি হারালেন ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা ◈ আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভিসা পাননি ◈ তামিম ইকবাল, বিসিবি ও কোয়াব ত্রিমুখী সংকটের নেপথ্যে রাজনীতি  ◈ চট্টগ্রামে জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৫, ০৯:৩৭ সকাল
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ট্রাম্পের দাবি ভুয়া: আটক অভিবাসীদের অধিকাংশেরই অপরাধের রেকর্ড নেই

পার্সটুডে- সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন তার সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যানের কোনো মিল খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ যেসব অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।

বার্তা সংস্থা ইসনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্যের বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকার বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বহু ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, খুনি, ধর্ষক এবং যৌন অপরাধীর মতো বিপজ্জনক অভিবাসীদের আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অফিসিয়াল পরিসংখ্যান এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেছেন- তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান চালাবেন, যাতে নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসীদের হুমকি থেকে রক্ষা করা যায়।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, আটককৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশেরই অপরাধ করার কোনো রেকর্ড নেই। ২৯ জুন ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ICE-এর হেফাজতে ৫৭,৮৬১ জন অভিবাসী রয়েছে, যার মধ্যে ৪১ হাজারেরও বেশি—অর্থাৎ প্রায় ৭১.৭ শতাংশের অপরাধ করার কোনো ইতিহাস নেই। 

এদের মধ্যে কিছু লোকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত চলছে, তবে অধিকাংশের বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।  ট্রাম্প এমন অভিবাসীদেরও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ও বাস্তবতা—এই দুয়ের মাঝে গভীর ফারাক রয়েছে। প্রথম মেয়াদ এমনকি বর্তমান দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, তারা শুধু অপরাধী এবং বিপজ্জনক অভিবাসীদের টার্গেট করছে। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। 

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস আরও জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাভ চার হাজা জন আটক হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই অপরাধের রেকর্ড নেই। 

যেসব ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ৬.৯ শতাংশ সহিংস অপরাধে জড়িত। অধিকাংশই অ-সহিংস অপরাধ করেছে, যেমন অবৈধ অভিবাসন, ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন বা নৈতিকতা-সংক্রান্ত বিষয়।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, মে মাসে যখন প্রেসিডেন্টের সহকারী স্টিফেন মিলার প্রতিদিন ৩,০০০ জন পর্যন্ত অভিবাসী আটক করার নির্দেশ দেন, তখন থেকে গ্রেপ্তারের হার অনেক বেড়ে যায় এবং জুন মাসেও এই ধারা অব্যাহত থাকে। অবাক করার বিষয় হলো, নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যেও অধিকাংশেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস শেষাংশে আমেরিকার জাতীয় অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর ২০২৩ সালের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে জানায়, গত ১৫০ বছরে অভিবাসীদের মধ্যে কারাবরণের হার আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারীদের তুলনায় সবসময় কম ছিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়