শিরোনাম
◈ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থেকে ‘সাদা মহিষ’, নাম ও বানান বিতর্কে পদ হারালেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ◈ যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা, আবারও বাজার ধসের শঙ্কা ◈ বাংলাদেশসহ বিশ্বের আকাশে আজ রাতে দেখা মিলতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন' ◈ ১০ মিটারের মধ্যে এলেই 'নীরব মৃত্যু' : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করছে ঘাতক রোবট ◈ শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তিনি জমা দিয়ে যেতে পারেন নাই, ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন: মতিউর রহমান চৌধুরী ◈ চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ◈ নতুন জীবনের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন আমেরিকানরা, পরামর্শ নিতে খরচ করছেন শত শত ডলার ◈ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহর ‘ব্লুপ্রিন্ট’, কী আছে পরিকল্পনায়? ◈ রোবটের শক্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া পড়েছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে (ভিডিও) ◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

এল সালভাদর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ৬৫ বছর বয়সী রাকেল মোলিনা প্রায় তিন দশক ধরে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্লেনের বাথরুম পরিষ্কার, সিট মোছা এবং আইল ভ্যাকুয়াম করার কাজ করে আসছিলেন। তার কাছে বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতিও ছিল। অনুবাদ: টিবিএস

কিন্তু গত গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই ঘণ্টায় ১৯ দশমিক ৭৫ ডলারের এই চাকরি থেকে তাকে ছাঁটাই করা হয়। তার মতো দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে কাজ করা আরও অনেক অভিবাসী কর্মীও চাকরি হারান।

রাকেলের সুপারভাইজার জানান, বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স তার আর নেই। ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কেবল মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি রয়েছে, তারাই কেবল বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।

রাকেল মোলিনা বলেন, 'আমি বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। আমি কিন্তু খুব মন দিয়ে কাজ করতাম।' 

রাকেল মূলত 'টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস)-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন। এটি একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় কোনো বিপর্যয়ে পড়া দেশের নাগরিকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া হয়। 

তার এই ছাঁটাই মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বৃহত্তর ও সুপরিকল্পিত কট্টরপন্থী কৌশলেরই অংশ। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশিদের জন্য একটি 'অস্বস্তিকর' দেশে পরিণত করা। 

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বৈধ ও অনিবন্ধিত—সব ধরনের অভিবাসীদের চাকরি, চিকিৎসাসেবা, আর্থিক পরিষেবা, ট্যাক্স ক্রেডিট এবং এমনকি শিশুদের ডে-কেয়ারে (শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র) ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক কলকাঠি নাড়ছেন। 

এর মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সব সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া। 

এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে এড়িয়ে নির্বাহী আদেশ এবং ফেডারেল বিধিমালার ক্ষমতা ব্যবহার করে কীভাবে অভিবাসননীতি ঢেলে সাজাচ্ছেন। এ ছাড়া বড় শহরগুলোতে সামরিক কায়দায় অভিবাসীদের ধরপাকড় (ডিপোর্টেশন রেইড) নিয়ে গত বছর রাজনৈতিক সমালোচনার পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন কৌশলে ও নীরবে তাদের ছক বাস্তবায়ন করছে। 

এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে যেমন অভিবাসন ব্যবস্থার কাঠামোগত বদল রয়েছে, তেমনি ছোট ছোট নিয়মের পরিবর্তন করে রাকেলের মতো কয়েক হাজার মানুষের চাকরি বা সেবা কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।

কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের মুখপাত্র জাস্টিন লং জানান, প্রশাসন এখন আর টিপিএস-কে 'অনুমোদিত বসবাস' (অথোরাইজড রেসিডেন্সি) হিসেবে বিবেচনা করে না। এর মানে হলো, রাকেলকে আর 'সরকারি পরিচয়পত্র দেওয়া যাবে না এবং তাকে নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হবে না।' 

প্রশাসনের এই কৌশল এবং সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার ও কারাবাসের ভয় অনেক অভিবাসীকে আড়ালে চলে যেতে বাধ্য করেছে। তারা এখন ট্যাক্স জমা দিতে, চিকিৎসকের কাছে যেতে বা এমনকি ভ্রমণ করতেও ভয় পাচ্ছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত স্থায়ী আইনি বৈধতাহীন ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই সরকারের 'সেলফ-ডিপোর্টেশন' (স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ) কর্মসূচির আওতায় গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরও অনেকেই সরকারকে না জানিয়েই দেশ ছেড়েছেন। 

সাবেক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় প্রশাসনেই কাজ করা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ডেলগাদো বলেন, 'এটি অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। সরকারের সব স্তরেই এর ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। এমন অনেক নিয়মকানুন তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি অভিবাসী সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করছে।' 

এই পুরো প্রচেষ্টার তদারকি করছেন স্টিফেন মিলার। তিনি ট্রাম্পের সবচেয়ে প্রভাবশালী সহযোগীদের একজন এবং তার অভিবাসন এজেন্ডার মূল রূপকার। মিলার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসা নতুন অভিবাসীরা আমেরিকান পরিচয়, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য হুমকিস্বরূপ।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেছিলেন, 'ব্যাপক হারে আসা এসব অভিবাসী ও তাদের বংশধরেরা নিজেদের বিধ্বস্ত দেশের মতো পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস এখানেও তৈরি করে।' 

দুজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তার মতে, মিলার হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমেরিকান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের অভিবাসননীতি 'সব সময় আমেরিকান জনগণের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, সেটাই করবে।'

এই কৌশলের কারণে অনেক বৈধ অভিবাসীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যার মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা, উদ্বাস্তু, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। 

ফেডারেল কর্মকর্তারা এমন একটি নিয়মের পরিকল্পনা করছেন, যার ফলে কোনো শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক না হন, তবে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ওই শিশুও ডে-কেয়ারের জন্য আর কোনো সরকারি ভর্তুকি পাবে না।

এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীসহ সব অনাগরিকের জন্য সরকার-সমর্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসার ঋণ পাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক অভিবাসীকে ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া থেকেও নিষিদ্ধ করে একটি নিয়ম জারি করা হয়েছে। 

প্রশাসন এ-ও জানিয়েছে যে কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হতে পারে, যা মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও ভয়ের জন্ম দিয়েছে। 

অন্যান্য পরিবর্তনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন সেসব লাখ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী, যারা নিজেদের দেশ থেকে পালিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আদালতে তাদের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত (যাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে) আশ্রয়প্রার্থীরা কাজ করার অনুমতি পান।

কিন্তু এ বছর ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এমন একটি নিয়মের প্রস্তাব করেছে, যা কার্যত আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া বন্ধ করে দেবে। এই পদক্ষেপের প্রভাব হতে পারে ভয়ংকর। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ২০ লাখেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন বা নবায়ন করেছেন। 

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলই মনে করে যে এই আশ্রয় ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। মিলার বলেছেন, এই কর্মসূচিটি এখন অভিবাসীদের জন্য দেশে থাকার একটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমনকি যাদের শেষ পর্যন্ত আশ্রয় পাওয়ার কোনো আশাই নেই, তারাও এই সুযোগ নিচ্ছেন। 

নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার সময় ইউএসসিআইএস জানিয়েছিল, আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়ার ফলেই অনেক অভিবাসী 'ভিত্তিহীন, প্রতারণামূলক বা অযোগ্য' আবেদন জমা দিতে উৎসাহিত হয়েছেন।

সংস্থাটির মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করাটা একটি বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ), কোনো অধিকার (রাইট) নয়।' 

প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে কাজ করা জর্জ ফিশম্যান বলেন, মিলার এবার হোয়াইট হাউসে অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়ে ফিরেছেন, যাতে তার নীতিগুলো আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ টিকতে পারে।

প্রশাসন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আর্থিক পরিষেবা থেকেও বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যেখানে ব্যাংকগুলোকে তাদের গ্রাহকদের অভিবাসন স্ট্যাটাস কঠোরভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। 

এ ছাড়া অভিবাসীরা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড অ্যাকাউন্ট খুলছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছিল ফেডারেল এজেন্টরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মিলার এই বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। 

আইন অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অভিবাসীরাও বৈধ কাগজপত্র—কনস্যুলার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বা রাজ্যগুলোর (মূলত ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত) দেওয়া পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। 

'অপারেশন পিকপকেট' নামের ওই তদন্তে ব্যাপক কোনো প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো দেখা গেছে যে বেশির ভাগ মানুষই বৈধ পরিচয়পত্র দিয়ে আইন মেনেই অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।

মিলার দাবি করেন যে সামাজিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরা করদাতাদের জন্য একটি বোঝা। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীরা আসলে জন্মসূত্রে আমেরিকানদের চেয়ে সরকারি সুবিধা অনেক কম ব্যবহার করেন এবং তারা প্রয়োজনীয় শ্রমের জোগান দেন। 

অনিবন্ধিত অভিবাসীরা সাধারণত ফেডারেল স্বাস্থ্য ও কল্যাণ কর্মসূচিতে নাম লেখাতে পারেন না। তবে ক্লিনটন আমলের একটি নীতির কারণে তারা কিছু স্বাস্থ্যসেবা পেতেন। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সরকারি অর্থায়নে চলা কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক রয়েছে, যেগুলো বিনা মূল্যে বা কম খরচে স্বাস্থ্য ও দাঁতের চিকিৎসা দেয়। 

গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে তারা এই নীতি বাতিল করবে। অর্থাৎ, এখন থেকে চিকিৎসা নিতে হলে রোগীদের তাদের অভিবাসন স্ট্যাটাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে।

এর প্রতিবাদে ২০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মামলা করার পর, গত গ্রীষ্মে একটি ফেডারেল আদালত এই নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় ট্রাম্পের রোষানলে পড়ার ভয়ে এমনিতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়। 

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা একটি ধনী এলাকা, যা মূলত অভিবাসী সেবাকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। গত সেপ্টেম্বরে স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন যে কাউন্টির পাঁচটি সরকারি অর্থায়নে চলা স্বাস্থ্য ক্লিনিক প্রায় ৭ হাজার ৫০০ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে আর চিকিৎসা দেবে না। 

পরে এক শুনানিতে কর্মকর্তারা জানান, তাদের ভয় ছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো প্রতিশোধ হিসেবে এখান থেকে অন্যান্য ফেডারেল অনুদানও কেড়ে নিতে পারে। 

সান্তা বারবারা কাউন্টি সুপারভাইজার জোন হার্টম্যান বলেন, 'যদি সত্যি সত্যিই সরকার রুষ্ট হয়, তবে আমরা কি অন্যান্য অসহায় মানুষকে সেবা দেওয়া প্রকল্পগুলোর তহবিল হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি?' 

অবশ্য মানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে কাউন্টি পরে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। তবে সান্তা বারবারা এবং সারা দেশের ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তারা রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যেতে দেখেছেন।

সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং সান্তা বারবারা কাউন্টির একটি ক্লিনিকের নিবন্ধিত নার্স সান্ড্রা পোলিচেটি বলেন, 'ক্লিনিকটা যেন ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছিল। ভয়ে রোগীরা আসাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।'

এ ছাড়া ট্রাম্পের নীতিমালার কারণে মার্কিন নাগরিক শিশুরাও ফেডারেল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—যদি তাদের মা-বাবা অনিবন্ধিত অভিবাসী হন। 

গ্যাব্রিয়েল এবং আনা লরেঞ্জোর চার মেয়ে, যারা সবাই আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৩, ১১ এবং ৭ বছর বয়সী তিন মেয়ে ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য। লাখ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীর মতো লরেঞ্জো পরিবারও বছরের পর বছর ধরে কর দিয়ে আসছে। 

এই ক্রেডিট বা ছাড়টি না পাওয়ায় পরিবারটির ট্যাক্স রিফান্ড গত বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় অনেক কমে গেছে। দ্য টাইমসের সাথে শেয়ার করা ট্যাক্স নথি অনুযায়ী, গত বছর যেখানে তারা ৩,৫০০ ডলার রিফান্ড পেয়েছিলেন, এবার সেখানে তা কমে মাত্র ৩০২ ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ করা লরেঞ্জো বলেন, 'আমাদের তো বাসাভাড়া এবং বিল শোধ করতে হয়।'

আনা লরেঞ্জো জানান, তার জরায়ু অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকট মেটাতে চিকিৎসকের পরামর্শের আগেই তাকে বাধ্য হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজে ফিরতে হয়েছে।

লরেঞ্জো পরিবারের মতো অনেক অনিবন্ধিত অভিবাসীই এমন মিশ্র পরিবারে বাস করেন, যেখানে তাদের স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানেরা মার্কিন নাগরিক। 

চলতি বছর গৃহায়ণ ও নগর উন্নয়ন বিভাগ জানিয়েছে, তারা এ ধরনের মিশ্র পরিবারগুলোকে পাবলিক হাউজিং বা সরকারি বাসস্থানে থাকতে নিষেধ করার পরিকল্পনা করছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের বৈধ বাসিন্দা হলেই চলত। বিভাগটি জানায়, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

গৃহায়ণমন্ত্রী স্কট টার্নার চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক মতামত কলামে এই পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি বলেন, আগের প্রশাসনগুলো অযোগ্য বাসিন্দাদের পাবলিক হাউজিংয়ে থাকার সুযোগ দিয়ে 'আমেরিকান পরিবারগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে অবহেলা' করেছে, যার ফলে অনেক আমেরিকানকে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হচ্ছে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়