শিরোনাম
◈ কৃষি খাতের ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন  বছরে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ◈ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশ: এডিবি ◈ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বিজিপির ১৪ সদস্য ◈ সিলেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ◈ বিএনপির মামলাভুক্ত ৬০ লাখ নেতা-কর্মীদের তালিকা চাইলেন ওবায়দুল কাদের ◈ পাল্টা হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি  ◈ প্রথম ধাপ: উপজেলা ভোটের মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় আজ ◈ আজ খুলছে ব্যাংক-বীমা-অফিস-আদালত ◈ মুক্তিপণ নিয়ে তীরে ওঠার পর ৮ জলদস্যু গ্রেফতার ◈ ইসরায়েল আক্রমণে ইরান প্রতি আক্রমণ করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২৪, ০৩:৪৭ দুপুর
আপডেট : ০৩ মার্চ, ২০২৪, ০৩:৪৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাঁপানি, শ্বাস-কষ্টে নারী পুরুষ শিশু রোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে: ডা. আয়শা আক্তার

শাহীন খন্দকার: [২] রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন-ই বাড়ছে হাঁপানি রোগী। শ্যামলী ২৫০ শয্যা টিবি ও অ্যাজমা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, যতো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন তার মধ্যে হাঁপানি রোগীই বেশি। তিনি বলেন, এই রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত এক মাসে শ্যামলী টিবি ও অ্যাজমা হাসপাতালে পুরুষ ৫৪ শতাংশ নারী ৪৪ শতাংশ আর শিশু ১০ শতাংশ এবং ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে পুরুষ ৩৪ শতাং এবং নারী ৬৭ শতাংশ রোগীই হাঁপানি রোগী। 

[৩] হাঁপানি রোগীদের নিয়ে প্রতি ১০ বছর অন্তর বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন প্রতি দশ বছর পরপর শাসতন্ত্রের রোগজীবানু নিয়ে জরিপ করেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে দেশে জরিপ করে ৭০লাখ হাঁপানী রোগী চিহ্নিত করে।এর ১০ বছরের পর বেড়েছে বিশলাখ। অন্যদিকে করোনাভাইরাস মহামারির ২০২০ সাল থেকে দেশে কোন জরিপ হয়েছে কিনা তাঁর জানা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

[৪] তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমানে হাঁপানি রোগী আসছে বললেন, ডা. আয়শা আক্তার। তিনি বলেন, ফেরুয়ারির ১ তারিখ থেকে মার্চের ২ তারিখ পর্যন্ত শ্যামলী টিবি ও অ্যাজমা হাসপাতালে সর্ব মোট রোগী সেবা নিয়েছে আউটডোরে ৮ হাজার ৪৮০ জনের মধ্যে শিশু রোগী ৮২৪ জন আর পূর্ণ বয়স্ক নারী ৩ হাজার ৯৯২ জন, পুরুষ ৩ হাজার ৯৪৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জনের মধ্যে পুরুষ-১০০ জন আর নারী -১৮০ জন আর শিশু ২০ জন।

[৫] এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর অ্যাজমা, সংস্থাটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাঁপানির  প্রাথমিক চারটি লক্ষণ। শ্বাস-কষ্ট, নিঃশ্বাসের সাথে সাঁ-সাঁ শব্দ শুনতে পাওয়া, সেই সঙ্গে শুকনো কাশি, প্রায়শ-ই এই কাশি দীর্ঘ সময় চলা এবং বুকে চাপ অনূভবসহ অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে উঠার লক্ষণকে হাঁপানি আক্রান্ত হওয়াকে বুজিয়ে থাকে।

[৬] এধরণের লক্ষ্য  দেখামাত্র-ই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ারা পরামর্শ  দিয়েছেন তিনি। তবে হাঁপানি পরিবেশগত বা বংশগত কারণে হতে পারে। তিনি বলেন, ইদানীং পরিবেশগত কারণটিই বেশি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক যে  কোন বয়সের মানুষ হাঁপানি  রোগে আক্রান্ত হতে পারে বা হচ্ছে।

[৭] মোহম্মদপুর আদাবরের বাসিন্দা আফিয়া বেগমকে হাঁপানির জন্য নিয়মিত ইনহেলার ও কিছু ঔষধ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেক সময় তার হাঁপানির প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যেদিন ধুলোবালির মধ্যে কাজ করেন, বিশেষ করে গরমকালে।

[৮] ধুলোবালি যদি নাকে যায় তাহলে সাথে সাথে হাঁচিসহ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। তখন আমাকে ইনহেলার নিতে হয়।এছাড়াও বদ্ধ ঘরে কয়েকদিন থাকলেও একই ধরনের সমস্যা হয়। সাভারের নলছাতি গ্রামের আয়শা বানু বলেন, তার সমস্যাও ধুলোবালিতে।শহরে হাঁপানি কেন বেশি হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আয়শা বলেন, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এবং যেখানে নগরায়নের প্রক্রিয়া চলছে সেখানে হাঁপানি বেশি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

[৯] তিনি বলছেন, শহরের পরিবেশ দূষণ বেশি থাকে। থাকে ধুলো, গাড়ির ধোয়া, ইটভাটার ধোঁয়া পরিবেশ দূষণের কারণে ফুসফুসের এই রোগটি দ্রুত প্রসারিত হয়। তবে যাদের হাঁপানি রোগটি আছে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকেন। শহরের ঘনবসতিতে ঘিঞ্জি ঘরে বসবাস করতে হয় যা ঘরের ভেতরের পরিবেশকে স্যাঁত স্যাঁতে ও অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। ঘরের কোনায়, আসবাব পত্রের তলায় জমে থাকা ধুলো এবং সেই ধুলোয় ডাস্ট মাইট নামে এক ধরনের কীট বেশি তৈরি হয়। ধুলো এবং এই কীট হাঁপানি বাড়িয়ে দেয়।

[১০] এই উপ-পরিচালক  আরও বলেন, রান্নার ধোঁয়া থেকেও ঘরের ভেতরে পরিবেশ দূষণ হয়ে থাকে। শহরে বদ্ধ ঘরে রান্নার ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য ব্যবস্থা থাকে না,যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আক্রান্ত করে।

[১১] তবে গ্রামাঞ্চলে পরিবেশ খোলামেলা হওয়ার কারণে এসব সমস্যা কম হয়ে থাকে। তাই সুস্থ থাকার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি। শহরে গাড়ির দূষণ, প্রতিদিনই নির্মাণকাজ চলছে ,এমন জায়গায় গেলে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। দিনের যে সময়ে যে এলাকায় দূষণ বেশি হয় সে সময়টি বাইরে যাওয়ার বা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

[১২] ঋতু পরিবর্তন, দূষণ বা অস্বাস্থ্যকর খাবার- হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একগ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। যেকোনো কিছু খাওয়ার আগে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ধূমপান-মদ্যপান হতে বিরত থাকতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থাকুক আর নাই থাকুক, এই দুটিসহ যেকোনো মাদকদ্রব্য স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর।

[১৩] উল্লেখ্য,দেশে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান  ব্যুরোর এক হিসাব ২০১৯ সালে হাঁপানিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ হাজার ২৯০ জনের আর ২০২০ সালে ৩২ হাজার  ৭৫ জন।

[১৪] এই রোগটি হতে মুক্ত থাকতে হলে প্রতিটি মানুষকে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, ধুমপান পরিত্যাগসহ খোলামেলা পরিবেশ ও নির্মল বাতাসে থাকার কথা বললেও রাজধানী ঢাকায় এমন পরিবেশ পাওয়া খুবই মুশকিল। সম্পাদনা: কামরুজ্জামান

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়