শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৫:১২ বিকাল
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৫:১২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নারীদের স্তন,পুরুষদের ফুসফুস ক্যান্সার বেশি: গবেষণা

ক্যান্সার

শাহীনস খন্দকার: ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধের বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ ও খাদ্যাভাসও ক্যান্সারের বড় একটি কারণ। কয়েক বছর আগেও এটি নিয়ে কাজ করা অতটা সহজ ছিল না।

চিকিৎসা ব্যবস্থাও ততটা উন্নত ছিল না। এখন পরিবর্তন হয়েছে। তবে এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ইনস্টিটিউট দরকার।

নতুন করে আটটি মেডিকেল কলেজ হচ্ছে, সেখানে হয়তো হবে। কিন্তু যারা করবে তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ধূমপানসহ নানা অভ্যাসের কারণে নিজেরাই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হচ্ছি কি না ভেবে দেখা উচিত।নীতি-নির্ধারকদের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।কোন ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য ও কোনটি চিকিৎসা ছাড়া হবে না সেটি নির্ণয় করতে হবে। একই সঙ্গে পৃথক লিঙ্গ ও বয়সকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোন বয়সে কোন ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে সেটি দেখতে হবে।

দেশে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত সর্বাধিক পুরুষ আর স্তন ক্যান্সারে শীর্ষে রয়েছেন নারী। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের (২০১৮ থেকে ২০ সাল) পর্যন্ত ক্যান্সার রোগীদের তথ্যে প্রকাশ গবেষণায় দেখা গেছে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা পুরুষদের ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্ত শতকরা বিবেচনায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়াও নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার, প্রায় ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

বুধবার (৭ নভেম্বর) ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত হাসপাতালভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন প্রতিবেদন ২০১৮-২০২০ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলোজি বিভাগের বিদায়ী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। 

তিনি বলেন, গত তিন বছরে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটে ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে মোট ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন রোগী সেবার জন্য এসেছেন, যাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৩৩ (৪২দশমিক ৬ শতাংশ ) জনের প্রাথমিকভাবে ক্যান্সার নির্ণয় হয়েছে। 

ডা. রাসকিন জানান, নিবন্ধিত রোগীদের মধ্যে মোট ১৯ হাজার ৫৪৬ জন (৫৫ শতাংশ) পুরুষ ও  ১৬ হাজার ১৮৭ জন (৪৫শতাংশ) নারী। নারীপুরুষ নির্বিশেষে শীর্ষ দশ ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুস (১৭দশমিক ৪ শতাংশ), স্তন (১৩দশমিক ৪ শতাংশ), জরায়ুমুখ (১০দশমিক ৯শতাংশ), খাদ্যনালী (৪দশমিক ৯শতাংশ), পাকস্থলী (৪ দশমিক৩ শতাংশ), লিভার (৩দশমিক৯শতাংশ), লসিকা গ্রন্থি (৩দশমিক ৮শতাংশ), মলাশয় (৩দশমিক ১শতাংশ), গাল (৩শতাংশ) ও পিত্তথলির (১দশমিক ৫শতাংশ) ক্যান্সার।

পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ক্যান্সার ফুসফুস (২৬দশমিক ৬শতাংশ) এবং নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার (২৯দশমিক৩ শতাংশ)। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, ২০১৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতীয়ভাবে একবার জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণা করেছিল, এরপর আর হয়নি।

নতুন করে করার আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এটি হওয়া জরুরি। কিন্তু তার জন্য বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি গবেষণা মানে রোগীর ডায়াগনোসিস থেকে শুরু করে তার অবস্থা কোন পর্যায়ে, কোথায় গিয়ে থামতে পারে সব লিপিবদ্ধ করা। যেটি অনেক বেশি কঠিন। কারণ, আমাদের ডায়াগোনসিস ও সুযোগ-সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। 

এসকে/এএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়