আমাদের শরীরে অনেকেরই চামড়ার নিচে দলার মতো কিছু একটা প্রায়শই দেখা যায়। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ধরে নেয়, আবার অনেকেই এটি নিয়ে চিন্তিত থাকেন। চমড়ার নিচে পিন্ডের মতো এটি আসলে কী? এটি নিয়ে কি চিন্তার কোন কারণ আছে?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চামড়ার নিচে ছোট নরম গোলাকার একাধিক এই পিন্ডগুলোকে বলে লাইপোমা বা লিপোমা। আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিয়ে ধরলে এটি নড়াচড়া করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন এবং ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মানবদেহের নরম টিস্যু টিউমারগুলোর মধ্যে লাইপোমা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশ্বের প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে একজনের শরীরে এ ধরনের টিস্যু আছে।
লাইপোমা হওয়ার কারণ
লাইপোমা হলো চর্বি বা মেদ দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিনাইন টিউমার যা ক্ষতিকর নয়। জেনেটিক বা বংশগত কারণ, বয়স, আঘাত বা বংশগত বিশেষ কিছু রোগের কারণে লাইপোমা হতে পারে। যদি পরিবারে কারো লাইপোমা থাকে তাহলে জিনগত পরিবর্তনের কারণে অন্য সদস্যদেরও এই সমস্যা হতে পারে। ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে লাইপোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে এটি যেকোনো বয়সে হতে পারে।
এছাড়া কিছু বিরল জিনঘটিত রোগ যেমন— ফ্যামিলিয়াল মাল্টিপল লাইপোমাটোসিস, গার্ডনার্স সিন্ড্রোম বা ডারকামস ডিজিজের কারণেও শরীরে একাধিক লাইপোমা হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন লাইপোমা হয়েছে
এটি সাধারণত ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা পেটে বেশি দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি ২ ইঞ্চি ব্যাসের হয়। তবে কখনো কখনো ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত বড় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষকদের মতে এটিকে জায়ান্ট লাইপোমা বলে। বেশিরভাগ লাইপোমা ব্যথাহীন হয়। তবে এটি যদি কোনো স্নায়ুর ওপর চাপ দেয় বা এর ভেতরে রক্তনালীর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে ব্যথা অনুভব হতে পারে।
লাইপোমা থেকে কি ক্যানসার হয়?
লাইপোমা হলো ক্যানসারহীন টিউমার। চর্বি কোষ থেকে উৎপন্ন ক্যানসারকে বলা হয় লাইপোসারকোমা যা একটি আলাদা ও বিরল রোগ। একটি সাধারণ লাইপোমা সচরাচর রূপ নিয়ে ক্যানসারে পরিণত হয় না। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুরুর দিকে লাইপোসারকোমাকে দেখতে সাধারণ লাইপোমার মতো মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে যদি এটি শক্ত এবং বড় হতে থাকে, পাশাপাশি ব্যথা অনুবব হয় তাহলে জরুরি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
লাইপোমা শনাক্ত
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাইপোমা কেবল শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিনের পরীক্ষা বা বায়োপসি করেও এই রোগ নির্ণয় করা হয়।
কখন অপারেশন করবেন
চিকিৎসকের মতে, যদি কোনো শারীরিক সমস্যা না হয় তাহলে অপারেশনের প্রয়োজন নেই। তবে যদে পিণ্ডটি দ্রুত বড় হতে থাকে এবং অস্বাভাবিক ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। লাইপোমার সবচেয়ে প্রচলিত ও কার্যকর পদ্ধতি হলো সার্জিক্যাল এক্সিশন। এর মাধ্যমে ছোট ছোট ছিদ্র করে লাইপোমা বের করে আনা হয়। এছাড়া লিপোসাকশন এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়েও লাইপোমার আকার সংকুচিত করা যায়।
সূত্র: যুগান্তর