মনিরুল ইসলাম : রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে জারি হওয়া লিগ্যাল নোটিশকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের নির্মাতা, শিল্পী, লেখক, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন সংগঠন। সাথে রয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও বিনোদন সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা পোস্ট দিয়ে এই আইনী নোটিশের তীব্র বিরোধিতা করছেন।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে আয়োজিত এক যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলো জানায়, একটি নির্দিষ্ট ধারার সৃজনশীল নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সৃজনশীল বিকাশ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কনটেন্ট দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কোনো কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার সম্ভব, কিন্তু পুরো একটি ধারার নির্মাণ বন্ধের দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টেলিভিশন শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে সই করেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন সুমনসহ টেলিভিশন অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
উল্লেখ্য, রোমান্টিক কনটেন্ট নির্মাণ বন্ধের দাবিতে জারি হওয়া ওই লিগ্যাল নোটিশকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দেশে-বিদেশে থাকা বাংলাদেশি তারকা ও সাধারণ দর্শকরাও এ নোটিশকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।