পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন প্রিয়দর্শিনীখ্যাত চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আমেরিকায় ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয়ের জন্য মৌসুমী চুক্তিবদ্ধ হলেও অভিযোগ উঠেছে পরিচালক এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। এমনকি প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়ারও অভিযোগ অভিনেত্রীর।
এদিকে, অভিনেত্রীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী এই ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তারা আইনের আশ্রয় নেবেন। এমনকি পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী সমিতিতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মৌসুমী বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ এক ঘণ্টার একটা নাটক ছিল। যেখানে প্রবাসে এক নারীর সংগ্রাম ও জটিল সম্পর্কের গল্প তুলে ধরা হয়। একটা মেয়ের এই দেশে আসার পর তার আমেরিকাতে সংগ্রামের সময়টা এবং তার একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ যাকে বলে। কিন্তু সে এই কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ থেকে বের হতে পারে না। এমন একটা ছোট গল্প নিয়ে এই ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ গল্পটা সাজানো।
তিনি বলেন, নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের অনুরোধে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এতে কাজ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশিদিন শুটিং করা হয়। অভিনেত্রী বলেন, শুটিংয়ের কিছুদিন পর আমাকে এসে সে বললো, আপু এটা তো এক ঘণ্টার নাটকের চেয়ে বেশি শুটিং হয়ে গেছে। তাই আমি এটা টেলিফিল্ম বানাতে চাচ্ছি। টেলিফিল্মের বিষয়ে আপত্তি করেননি জানিয়ে মৌসুমী বলেন, হাসান বলেন ঢাকারও কিছু অংশ শুট করার পর এটা টেলিফিল্মের একটা ভালো ডিউরেশন হয়ে গেছে। তো এটা এখন যদি আমরা টেলিফিল্ম করি আপনার কোনো আপত্তি আছে? তখন আমি বললাম কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাকে তো টেলিফিল্মের পারিশ্রমিক দিতে হবে। তখন ও বললো যে, ঠিক আছে আমি সেটা অ্যারেঞ্জ করবো। কিন্তু সম্প্রতি চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর সনদ নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন মৌসুমী। তিনি বলেন, হঠাৎ শুনলাম এটা সিনেমা আকারে সেন্সর পেলো। আমি খুবই অবাক হলাম। সেন্সর বোর্ড এটা কীভাবে সিনেমা আকারে পাস করলো।
মৌসুমী অভিযোগ করেন, কাজটির জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিকও তিনি পাননি। ডাবিংসহ কারিগরি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানিয়েছেন, এভাবে অসম্পূর্ণ একটি কাজ চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পাওয়া উচিত নয়।