মনিরুল ইসলাম : জাজ আবার ফিরছে সিনেমা প্রযোজনায়। জাজ মাল্টিমিডিয়া ইতোমধ্যে নতুন পরিচালকদের সাথে ৪টি সিনেমার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে । ৪টি সিনেমার পরিচালক চূড়ান্ত। তবে নাম ঘোষণা করেনি। এক অনুষ্ঠানে মাধ্যমে শিগগিরই ঘোষণা করা হবে সিনেমা ৪ পরিচালক ও সিনেমার নাম বলে জানান জাজ এর কর্ণধার আব্দুল আজিজ। শ্যুটিং শুরু হবে 'মে মাস থেকে।
আজ শুত্রুবার সন্ধ্যায় আলাপকালে তিনি জানান, "JAAZ is back in it's old form..." সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কথাটি পোস্ট করার পর থেকে আমাদের কাছে অসংখ্য কমেন্ট, ম্যাসেজ ও ফোন আসছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, 'Old Form' মানে কি আমরা আবারও 'শিকারী, 'বাদশা' বা 'নবাব'-এর মতো সিনেমা বানাতে যাচ্ছি? আমরা কি সব সুপারস্টার বা নামিদামি নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে সিনেমা বানাব? এইরকম নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাজ মাল্টিমিডিয়া সবসময় দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। আমাদের কাছে "Old Form" মানে হলো—নতুন ধরণের সিনেমা, নতুন টেকনোলজি, নতুন অভিনয় শিল্পী, নতুন পরিচালক এবং বিশাল আয়োজনের বড় সিনেমা। আমাদের কাছে বড় সিনেমা মানেই বড় স্টার বা সুপারস্টার নয়। যেমন, আমাদের 'অগ্নি' সিনেমাটি ছিল সে সময়ের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমা, কিন্তু এর কাস্টিংয়ে তখন বড় কোনো স্টার ছিলেন না।
'Old Form' মানে হলো জাজ আবারও নতুন মুখ আনছে। একসময় যেমন বাপ্পি, মাহী, আরেফিন শুভ, ফারিয়া, শিপন, রোশান, বুবলী, পূজা বা সিয়ামের মতন তারকাদের নিয়ে এসেছিল, তেমনি আবারও নতুন গল্প ও সর্বাধুনিক টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে নতুন মুখ নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে জাজ।
তিনি জানান, নতুন সিনেমাগুলোতে থাকবেন একদম নতুন নায়ক-নায়িকা। খুব তাড়াতাড়ি জমকালো মহরতের মাধ্যমে আমরা নায়িকাদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। আর নতুন নায়ক কে হবে? তাকে আপনারা সরাসরি রুপালী পর্দাতেই দেখতে পাবেন। এই হচ্ছে আমাদের নতুন মার্কেটিং প্ল্যান। আগেই বলেছি, আমরা নতুন কিছু করতে যাচ্ছি।
সিনেমার বাজেট কেমন হবে? এটুকু বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাজেটের সিনেমা বানাতে যাচ্ছি। না, এখানে কোনো সুপারস্টার নেই। এমনকি সম্পূর্ণ সিনেমার কাস্টিং খরচ কমবেশি ৫ লক্ষ টাকার মধ্যেই থাকবে। এত কম কাস্টিং খরচের সিনেমার বাজেট এতো বড় কেন? কারণ, আমরা স্টারের পেছনে টাকা না ঢেলে সিনেমার শুটিং, গান, অ্যাকশন এবং লোকেশনের পেছনে খরচ করব। উদাহরণস্বরূপ, সিনেমার AI ও VFX-এর কাজ হবে আমেরিকা এবং মুম্বাইয়ের 'রেড চিলিজ'-এ, কালার গ্রেডিং হবে আমেরিকায়, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হবে মুম্বাইয়ে এবং সাউন্ড ডিজাইন হবে চেন্নাইয়ে। মূলত প্রোডাকশনের এই জায়গাগুলোতেই আমাদের মূল খরচটা হবে।
এতো বড় বাজেটের খরচ কি বাংলাদেশের বাজার থেকে উঠবে? সত্যি বলতে, না, উঠবে না। সিনেমা সুপারহিট হলেও বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো থেকে হয়তো ৩ কোটি টাকার মতো উঠে আসবে। বাকি টাকা আমাদের বিদেশের থিয়েটার এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে আনতে হবে। এরই মধ্যে আমরা আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে কথা বলেছি। পাশাপাশি বিদেশী বড় দু'টি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাথেও আলোচনা চলছে। আমাদের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য অনেক বড়।
বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এই সিনেমাগুলো থেকে কী পাবে? প্রথমত, বাপ্পি, মাহি, শুভ, ফারিয়া, রোশান, বুবলী, পূজা বা সিয়ামদের মতোন নতুন নায়ক-নায়িকা পাবে, যারা তাঁদের প্রথম সিনেমাতেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ইন্ডাস্ট্রি পাবে নতুন পরিচালক। দর্শক দেখবে একদম নতুন কিছু—নতুন ধরনের গল্প ও সর্বাধুনিক কারিগরি নির্মাণ। সেইসাথে থাকবে নতুন ধরণের ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম। সিনেমাগুলো ৩টি ভাষায় মুক্তি পাবে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি।
সিনেমাগুলোর গল্প কেমন হবে? এই ৪টি সিনেমাই ব্যতিক্রমধর্মী গল্পে নির্মিত হবে, যাতে ইমোশন ও অ্যাকশনের একটা দারুণ কম্বিনেশন থাকবে। এ বছর আরও দুটি সিনেমার কাজ শুরু করব, যেগুলো হবে 'ডার্ক থ্রিলার'। আর, ২০২৭ সালে করব একটি পিওর রোমান্টিক সিনেমা। আপাতত এই ৭টি সিনেমার মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছি আমরা। সবকটি সিনেমার নাম ও গল্প চূড়ান্ত করা আছে, যা আমরা যথাসময়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে জানাব। ইতোমধ্যে টেস্ট শ্যুট সম্পন্ন হয়েছে এবং নায়ক-নায়িকা নির্বাচনও চূড়ান্ত। মূল শ্যুটিং শুরু হবে 'মে, ২০২৬' থেকে।