শিরোনাম

প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৩, ০১:০৯ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৩, ০১:০৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অবশেষে জনগণের তোপের মুখে সেই অধ্যক্ষ, পুলিশের সহায়তায় কলেজ থেকে নিরাপদে 

তপু সরকার হারুন, শেরপুর: দুর্নীতি, স্বাক্ষর জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে উত্তেজিত জনতার হাতে এবার নিজ কলেজেই অবরুদ্ধ হলেন জমশেদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজা।
 
প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদলের নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজারস্থ কলেজে ওই ঘটনা ঘটে। এদিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন উত্তেজিত জনতা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, জালজালিয়াতির অভিযোগে জমশেদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনালসহ এলাকাবাসী। এ নিয়ে মামলা, মোকদ্দমা, স্মাারকলিপি, উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, লাঞ্চিতের ঘটনাও ঘটে।

এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত ও সিদ্ধান্ত হলেও কলেজে অশান্তি থামেনি। এই বিরোধে নতুন মাত্রা পায় মাস দুয়েক আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে। প্রায় দেড় মাস থেকে জমশেদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সচেতন এলাকাবাসীর ব্যানারে কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণ ও পরিচালনা পর্ষদের নয়া সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক অবরোধ, মাসব্যাপী গণজমায়েত, পদযাত্রা, গণসমাবেশ, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ওই অবস্থায় ১ জুন বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজা কলেজে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষকে তার রুমে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বছির আহমেদ বাদল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে কলেজ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইসময় আন্দোলনকারীরা মিছিল ও অধ্যক্ষকে বহন করা গাড়ি ধাওয়া করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রতিনিধি/এসএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়