শিরোনাম
◈ সাংবাদিকরা চাষাবাদ করছেন কি না, দেখার দায়িত্ব পেলেন শাইখ সিরাজ ◈ মালদ্বীপে আবার জাহাজ পাঠাল চীন  ◈ কারামুক্ত বিএনপি নেতা আলালের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন মঈন খান ◈ গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ শুক্রবার বিশ্বে বাতাস দূষণের তালিকায় ঢাকা ছিল সপ্তম ◈ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নির্বাচন  নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি: প্রধানমন্ত্রী ◈ লোহিত সাগরে হামলায় ব্যবহার করা হবে সাবমেরিন অস্ত্র: হুথি নেতা  ◈ ২১ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন আসজাদ ◈ যারা সরকার উৎখাত করতে চায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদেরই কারসাজি: প্রধানমন্ত্রী ◈ খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু: ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ

প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৮:১৭ সকাল
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৮:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাবিতে বর্নিল প্রজাপতি মেলা

প্রজাপতি মেলা

তানভীর মোবারক, জবি: বর্নিল প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে রঙিন ডানা মেলে।  এর কথা মনে হতেই নজরুলের সেই সংগীত মনে পড়ে যায়- ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা...? টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা.. কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা...?’  বাহারি রঙের এই পতঙ্গটির সাথে সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের পরিচিতি। তাইতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রজাপতি মেলায় শিশুদের বিচরণ বেশি।

প্রজাপতির নাম শুনলেই মনের মধ্যে এক প্রশান্তি কাজ করে। ভালো লাগা কাজ করে। সেজন্যই হয়তো প্রজাপতিকে বলা হয় ভালবাসার প্রতীক, সৌন্দর্যের প্রতীক। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতি অগ্রনী ভুমিকা পালন করে।বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি দেখা মেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এদের বসবাস।

পৃথিবীতে প্রজাপতির আবির্ভাব ঘটেছিল প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির প্রজাপতির দেখা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) তথ্য মতে বাংলাদেশেই রয়েছে ৩০৪ প্রজাতির প্রজাপতি। এদের মধ্যে প্রায় ১১০ প্রজাতির প্রজাপতি জাহাঙ্গীরনগরেই আছে।

'উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) অয়োজিত হয় প্রজাপতি মেলা ২০২২।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর ) বেলা সাড়ে ১১টায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক মেলার উদ্বোধন করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় অতিথিদের বক্তব্য শেষে প্রজাপতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তরুণপল্লব সংগঠনকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ দেওয়া হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে ‘বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট-২০২২’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে শিশুদের বিনোদনের জন্য প্রজাপতি নিয়ে পাপেট শো দেখানো হয়।

উদ্বোধন শেষে জহির রায়হান মিলনায়তন থেকে প্রজাপতি মেলা ২০২২ ব্যানারে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহীদ মিনার ঘুরে মিলনায়তনের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, প্রজাপতি আমাদের সকলের ভালবাসার প্রতীক। প্রকৃতিতে সৌন্দর্য্য বর্ধনের পাশাপাশি পরাগায়নের মাধ্যমে ফুল ফোটাতে এবং ফল উৎপাদনে সাহায্য করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে প্রজাপতি সংরক্ষণে সচেতনতায় কাজ করছে। তাদের এই কাজ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। প্রকৃতি রক্ষায় প্রজাপতির গুরুত্বের কথা শেষ করা যাবে না।’

এ সময় মেলার আহবায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। আমাদের খেয়াল রাখা দরকার এটি যেন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হয় বরং তার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, গবেষণা এবং তার পারিপার্শিক অবস্থা পরিচর্যা করে পরিচালনা করা। পরিবেশে প্রজাপতির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এটি পরাগায়নের মাধ্যমে বনাঞ্চলকে টিকিয়ে রাখে। আজকে এ প্রজাপতি মেলা আমাদের কে তার গুরুত্ব উপলব্ধিতে সাহায্য করবে। আমাদেরকে মনে করিয়ে দিবে প্রকৃতি কে ধ্বংস না করে  তাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

প্রজাপতির স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পূর্বে জাহাঙ্গীরনগরে ১২০ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ৫২ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়। সারাদেশে যত প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায় তার এক চতুর্থাংশ পাওয়া যেত এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ তার পরিমাণ কমে এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

পরাগায়নে সাহায্য করা রঙিন ডানার এই পতঙ্গটি নিয়ে বিশ্বের মানুষের রয়েছে নানা বিশ্বাস। গ্রিকরা বিশ্বাস করে, প্রতিটি প্রজাপতির জন্মের সঙ্গেই মানুষের আত্মার জন্ম হয়। অন্যদিকে জাপানীদের বিশ্বাস, যার ঘরে প্রজাপতি প্রবেশ করে, তার সবচেয়ে পছন্দের ব্যক্তিটি তাকে দেখতে আসে। দুইটি প্রজাপতিকে একসঙ্গে উড়তে দেখাকে চীনারা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে মনে করে। প্রজাপতি কারো কাছে ভালোবাসার প্রতীক। আবার কারো কাছে মৃত আত্মার অন্য রূপ।

র‍্যালি শেষে  শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রজাপতির নিয়ে বারোয়াড়ি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড়ানো হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে বিকাল সাড়ে ৪টায়।

প্রতিনিধি/এইচএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়