শিরোনাম
◈ গণহত‌্যা চালা‌তে ইসরায়েলের কা‌ছে ২৮০ কো‌টি ডলা‌রে ৪০ হাজার এক-টন সাইজের মার্কিন বোমা বিক্রি  ◈ জাতিসংঘে যেসব বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান ◈ বিরতির পর আবারও শুরু বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা, তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তৎপরতা ◈ এশিয়ার অধিকাংশ মুদ্রা দুর্বল, ডলারের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা ◈ যুদ্ধের মধ্যেই জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানি নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র ◈ দিল্লিতে ভয়াবহ ঘটনা: পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের পর বেরিয়ে এলো কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনা, দেহের অংশ খেয়ে ফেলে কুকুরে ◈ টিসিবির ডিলারশিপ ফিরে পেতে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকালেন আন্দোলনকারীরা ◈ বাঁশের ৭ গুণ, যা শুধু গাছ নয় পরিবেশ ও মানুষের জীবনে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ◈ ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে পেমেন্টের টাকা তাৎক্ষণিক জমা দেওয়ার নির্দেশ ◈ আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঘিরে ভীষণ চাপের মুখে পুলিশ

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৪ দুপুর
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিউইয়র্ক টাইম‌সের প্রতি‌বেদন

গণহত‌্যা চালা‌তে ইসরায়েলের কা‌ছে ২৮০ কো‌টি ডলা‌রে ৪০ হাজার এক-টন সাইজের মার্কিন বোমা বিক্রি 

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কাছে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। এসব বোমার প্রতিটির ওজন এক টন। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের কাছে ২৮০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্রের প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। প্যাকেজটিতে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা রয়েছে, যা ইহুদিবাদী ইসরায়েলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গোলাবারুদের চালানগুলোর অন্যতম। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় ৪০ হাজার ভারী বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রির উদ্যোগ, যদি তা চূড়ান্ত হয়, তাহলে এটি শুধু ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ অস্ত্র চুক্তি হবে না; একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান এবং তেল আবিবকে অব্যাহত সামরিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতবাহী চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

advertisement

এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যখন গাজা যুদ্ধ, লেবাননের সঙ্গে সংঘাত এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পরিণতি এখনো আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে, প্রতিটির ওজন ২,০০০ পাউন্ড বা প্রায় এক টন। এর ব্যয়ের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক অর্থায়নের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে; অর্থাৎ ইসরায়েলের মার্কিন অস্ত্র কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

এই চুক্তির গুরুত্ব প্রথমত সংশ্লিষ্ট গোলাবারুদের ধরন থেকে আসে। ২,০০০ পাউন্ডের বোমাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোর কয়েকটি ধরন শক্তিশালী ও ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে শক্ত ও ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর জন্য আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও রাখা হয়েছে। গাজা ও লেবাননে এমকে-৮৪ বোমার ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব গোলাবারুদের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কায়  জো বাইডেন প্রশাসন ২০২৪ সালে ২,০০০ পাউন্ডের কিছু বোমার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল; কিন্তু হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প এই বিধিনিষেধ তুলে দেন।

advertisement

এই দিক থেকে নতুন চালানের পরিমাণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২,০০০ পাউন্ডের ৪০ হাজার বোমার অর্থ হলো প্রায় ৪০ হাজার টন গোলাবারুদ। এই সংখ্যা ইঙ্গিত করে যে, ওয়াশিংটন শুধু ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পূরণ করছে না, একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য তাদের গোলাবারুদের মজুতও শক্তিশালী করছে।

 এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলের স্থল, ভূগর্ভস্থ ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে। এ কারণেই, এসব গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা না হলেও এবং এমন একটি চালান উৎপাদন ও পাঠাতে কয়েক বছর সময় লাগলেও, অস্ত্র সরবরাহের সময়সূচির বাইরেও এর কৌশলগত বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

advertisement

এই সিদ্ধান্ত সামরিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর কৌশলগত সম্পর্কের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাময়িক মতপার্থক্যও এই সম্পর্ককে থামাতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে বাইডেন প্রশাসনের সময় স্থগিত থাকা ২,০০০ পাউন্ডের বোমার সরবরাহ পুনরায় শুরু করে এবং পরে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির অনুমোদন দেয়। নতুন এই চুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েলে অস্ত্র হস্তান্তরের ধারাবাহিকতারই অংশ, যার মোট মূল্য তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক—দুই ধরনের প্রভাব রয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি এর আগেও সরকার, কংগ্রেস এবং মার্কিন জনমতের একটি অংশের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে।

 এখন এই চুক্তির ব্যয়ের বড় অংশ মার্কিন অর্থ থেকে মেটানো হলে বিষয়টি মার্কিন করদাতাদের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে—এই বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হবে। ট্রাম্পের সামাজিক ভিত্তির কাছাকাছি কিছু রক্ষণশীল রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহল থেকেও এই চুক্তির বিরোধিতা দেখা গেছে। ফলে এই চুক্তির বিরোধিতা শুধু ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনাকারী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

আঞ্চলিক পর্যায়ে, এত বিপুল পরিমাণ ভারী গোলাবারুদ হস্তান্তর একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির বার্তা বহন করতে পারে। একদিকে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকে আশ্বস্ত করছে যে ভারী অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তারা বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হবে না; অন্যদিকে, আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষ এটিকে সামরিক বিকল্প বজায় রাখা এবং সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যখন ইরান, লেবানন ও গাজার ঘটনাপ্রবাহ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, এই বিষয়টি অঞ্চলের অন্যান্য পক্ষের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রস্তাবিত ৪০ হাজার বোমার বিক্রয়কে এমন একটি বৃহত্তর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সামরিক অভিযানের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিবর্তে তার অস্ত্র সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে। 

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে, এর বার্তা শুধু ইসরায়েলের গোলাবারুদের মজুত বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; একইসঙ্গে এটি দেখাবে যে আন্তর্জাতিক চাপ এবং ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সামরিক অভিযানের মানবিক পরিণতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিতর্ক বৃদ্ধি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ায় তার নীতির অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে এই শাসকগোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করাকে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, এই বোমাগুলো দিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতবিরোধ তীব্রতর হওয়া, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক সংকট নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে ওঠার মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • সর্বশেষ