শিরোনাম
◈ হেটমায়ারের ঝড়ে রেকর্ড, বড় জয় নিয়ে সুপার এইটে ক্যারিবীয়রা ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মাঠ প্রশাসনে বড় রদবদল, একযোগে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি ◈ ন‌ভেম্ব‌রে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ  ◈ আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকার ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে ভাতা দেবে: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন? ◈ সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে প্রবেশের নির্দেশ, বিনা অনুমতিতে বাইরে নয়: আইন মন্ত্রণালয় ◈ ১২ মার্চ সকাল ১১ টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ◈ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ পাচ্ছেন যাঁরা ◈ ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব : ইশরাক হোসেন

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৫ রাত
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নগদ বিক্রির ব্যর্থ চেষ্টা, পিছু হটলেন গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে নগদ ইস্যুতে সবচেয়ে সোচ্চার থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গভর্নর নগদ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নেন। নগদে প্রশাসক নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, একাধিক অডিট করানো, উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তোলাসহ সব মিলিয়ে নগদকে কেন্দ্র করে গভর্নরের তৎপরতা ছিল নজিরবিহীন। এমনকি নগদকে বিকাশের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নানা পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি।

একপর্যায়ে নগদের অনুমোদন বাতিলের দাবিতে অর্থ উপদেষ্টার কাছেও দেনদরবার করেন গভর্নর। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে উপবৃত্তি বিতরণে উপকারভোগীদের নিজস্ব পছন্দের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের নির্দেশনাও জারি করানো হয়, যার মাধ্যমে কার্যত নগদকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে এসব উদ্যোগের পরও বাস্তবে নগদের কার্যক্রম আগের নিয়মেই চলতে থাকে। দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা মালিকানা পরিবর্তন না হওয়ায় গভর্নরের অবস্থান ক্রমেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময় পর্যন্তও নগদকে দমাতে গভর্নরের তৎপরতা থামেনি। একপর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের হাতে নগদ তুলে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান তিনি। এ লক্ষ্যে আরমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেন গভর্নর।

এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার আরমান নগদ অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে নগদের আর্থিক ও পরিচালন অবস্থা মূল্যায়নের লক্ষ্যে অডিট পরিচালনার অনুমতি চান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি দেশি ও বিদেশি বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছি। এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের উপযোগিতা যাচাই করতে একটি অডিট পরিচালনা করতে চান।

আরমান আরও লেখেন, বৈশ্বিক আর্থিক খাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদীয়মান প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি জানান, বৈঠকের সময় তিনি জানতে পারেন যে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সংঘটিত কথিত অনিয়মের কারণে নগদ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রশাসনের অধীনে রয়েছে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হতে পারে।

পরবর্তী ধাপে একটি ফরেনসিক অডিট পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, এর মাধ্যমে নগদের আর্থিক, পরিচালন ও ব্যবসায়িক অবস্থার শক্তি, দুর্বলতা ও ঝুঁকির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রায় আট বছর জোরপূর্বক গুমের শিকার ছিলেন। ২০১৬ সালে মিরপুর থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন তিনি তার বাবার আইনজীবী দলের সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট, তিনি মুক্তি পান।

দীর্ঘ আটবছর গুম থাকার পরে নগদ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করায় বিনিয়োগের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। এ বিশেষজ্ঞ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি (ব্যারিস্টার আরমান) দীর্ঘ সময় গুম ছিলেন, আয়নাঘরে ছিলেন। ফলে তার এমন বড় আকারের বিনিয়োগ, এ অর্থের উৎস, আইনি ও নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা চাই কোনো ব্যক্তির হাত ধরে কোনো প্রতিষ্ঠান আরো বেশি প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই যাতে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হন, সেটাও বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে নগদ বিক্রির বিষয়ে গভর্নরের একের পর এক উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে গত ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টর চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। ওই আদেশে বলা হয়, নগদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই।

তবুও গভর্নর থেমে যাননি। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করেই তিনি বারবার নগদ বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া বক্তব্যে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ছিল নগদকে পুনরায় বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়া। তবে নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের বিষয়। তিনি বলেন, নগদ আমাদের প্রতিষ্ঠান নয়; আমরা কেবল এটি পরিচালনা করছি। বর্তমানে এটি সরকারের মালিকানাধীন। সুতরাং সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগদের একজন কর্মকর্তা বলেন, নগদ বিক্রির সিদ্ধান্ত গভর্নর এককভাবে নিতে পারেন না। প্রথমত, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। দ্বিতীয়ত, নগদের মালিকানা কাঠামো জটিল। এখানে তিনটি পক্ষ রয়েছে- নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডাক বিভাগ এবং রেগুলেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তিন পক্ষের সম্মতি ছাড়া নগদের সমস্যার কোনো সমাধান সম্ভব নয়।

গত দেড় বছরে নগদ নিয়ে গভর্নর বিভিন্ন সময় নানা সম্ভাবনার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসলে কী করতে চেয়েছিলেন তা অস্পষ্টই থেকে গেল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়