শিরোনাম
◈ ব্যবসায়ী থেকে তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী: কে এই শেখ রবিউল আলম? ◈ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী ◈ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় যেসব বিএনপি নেত্রী ◈ ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, জানা গেল কে কোন দায়িত্বে? ◈ ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে আবেদন পড়েছে ৫০ কো‌টি ৮০ লাখ ◈ শেখ হাসিনা কি নেতাকর্মী‌দের ৩২ নম্ব‌রে যাতায়ত ও আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার নির্দেশ দিয়েছেন?  ◈ দুই মাস পর ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ ◈ রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না, আশ্বাস দিলেন ধর্মমন্ত্রী ◈ এলডিসি উত্তরণ: তিন বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিলো বাংলাদেশ ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনো বিতর্ক কেন?

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৩৩ বিকাল
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টিসিবি ট্রাকসেলে বহু মানুষের ভিড়: চাহিদার চেয়ে কম সরবরাহ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই পাচ্ছে না পণ্য

রাজধানীর হাতিরঝিল মধুবাগ ব্রিজ এলাকায় টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য (ট্রাকসেল কার্যক্রম) কিনতে আসেন রামপুরার উলন বাজারের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগম।

বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় রোজা রেখে গতকাল সকাল সকাল উপস্থিত হন তিনি। তবে তার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল আরো শ খানেক মানুষ। সবাই টিসিবির ট্রাকসেল থেকে পণ্য কিনবে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হতে থাকে লাইন। ১১টা নাগাদ চার শতাধিক মানুষ লাইনে দাঁড়ায়। পণ্যের ট্রাক আসতেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আনোয়ারা বেগম টিকতে না পেরে পাশের ফুটপাতে বসে পড়েন। তার চাওয়া—আজকের মতো পণ্য নিয়ে কোনোমতে বাড়ি ফেরা।

বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। তিনি বলেন, ‘প্রথম রোজায় মানুষ কম থাকবে ভেবে ৯টার দিকে আসি। এখানে কম দামে ছোলা, ডাল, তেল কেনা যায়। কিন্তু এসেই দেখি অনেক লম্বা লাইন হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ পর গাড়ি এলে সঙ্গে সঙ্গে সবাই হুড়োহুড়ি শুরু করে। অসুস্থ শরীর নিয়ে আর পারছি না। দম বের হয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে এখানে (ফুটপাত) বসে আছি। মানুষ কমলে নেব, নয়তো কেউ সাহায্য করলে নিতে পারব। আজকে নিয়ে আর আসব না।’

শুধু আনোয়ারা বেগম নন, এমন কয়েকশ মানুষ প্রতিদিন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কিনতে আসে এখানে। প্রতিদিনই বড় হচ্ছে লাইন। এ এলাকাসহ অন্য বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনেও সকাল থেকে আসতে থাকে মানুষ। ৪০০ জনকে পণ্য দেয়ার কথা থাকলেও ট্রাকের সামনে উপস্থিত থাকে আরো অনেক বেশি। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হয় অনেককে।

রাজধানীর রামপুরার বিটিভি গেট, বউবাজার, হাতিরঝিল মধুবাগ ব্রিজ, প্রেস ক্লাব, আগারগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকায় গতকাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের খাদ্যপণ্য থাকলেও উপস্থিত ছিলেন বেশি। কোনো কোনো ট্রাকের সামনে ৫০০ জনের বেশি লোক ছিলেন। ফলে অনেককে পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে হয় খালি হাতে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর বিক্রি করছে তারা। সারা দেশে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০, মসুর ডাল ৭০, ছোলা ৬০ ও খেজুর ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এর মাধ্যমে ৩৫ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করা হবে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা ও বরাদ্দ সাপেক্ষে এক-দুই কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। পাশাপাশি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রি কার্যক্রম চলছে। কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা থাকলেও সরবরাহ বাড়াতে পারছে না টিসিবি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে খাদ্যমূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতি কমে এলেও নভেম্বরে বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দারিদ্র্যও। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জানুয়ারিতে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। তিন মাস ধরে বাড়ছে এটি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখে। মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্য বাড়লেও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে পর্যাপ্ত পণ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না টিসিবি।

এ বিষয়ে টিসিবির উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) শাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমরা ডিলারের কাছে পণ্য দিয়ে দিই। তারাই এগুলো বিতরণ করছে। টিসিবির এসব পণ্যের (ট্রাকসেল) কম দাম এবং একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্য মেলায় মানুষের আগ্রহ বেশি। তাই আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। এখানে যেহেতু কোনো কার্ড নেই, তাই প্রতিদিন যে কেউ কিনতে পারে। চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, এটা সত্য। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এসব পণ্য মানুষের হাতে তুলে দেয়া যায়। কোনো ডিলার টাকার বিনিময়ে বেশি পণ্য দিচ্ছে—এমন অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ডিলারশিপ বন্ধ করে দেয়া হয়।’

এদিকে চাহিদা বাড়লেও তা পূরণ করতে না পারায় প্রতিদিন বড় হচ্ছে লাইনের আকার। গতকাল রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৪৪০ জন লাইনে দাঁড়িয়েছে ট্রাকসেলের পণ্য কিনতে। তবে খাদ্যপণ্য রয়েছে ৪০০ জনের। দুপুরের পর পণ্য বিতরণ শেষ হয়। ৪০০ জনকে দেয়া গেলেও বাকিরা না পেয়ে ফিরে গেছে। তাদের একজন আব্দুল কাদের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্ধেক দামে পণ্য পাওয়ার আশায় বেলা ১১টার দিকে এখানে এসেছিলাম। তিনটা লাইন ছিল। তাই ভাবছিলাম পাব। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে এসে তা শেষ হয়ে গেছে। রোজার জন্য কিছু পণ্য কেনা দরকার ছিল। এখন বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে। কালকে এসে আবার চেষ্টা করব।’

শাহানা আক্তার বলেন, ‘এখানে সবাই কিনতে আসে। একটা নির্দিষ্ট লাইন ধরে কেনা উচিত। কিন্তু ট্রাক এলেই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয় মানুষ। এভাবে কি কেনা যায়। টোকেন দিয়ে দিলে ভালো হতো। যারা টোকেন পাবে না, তারা চলে যাবে। তাহলে শেষদিকে হুড়োহুড়িটা কম হতো।’ তিনি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নজর দেয়ার আহ্বান জানান।

তবে ট্রাকসেল থেকে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতাদের প্রতি অভিযোগ রয়েছে বিক্রেতাদের। কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে আসার আগেই অনেক লম্বা লাইন হয়ে যায়। লাইন মেইনটেইন না করে সবাই আগে নিতে হুড়োহুড়ি শুরু করে। আমরা চেষ্টা করি তাদের বোঝানোর। বেশির ভাগই শোনেন না। তবে এখানে যে পরিমাণ মানুষ আসে সে পরিমাণ পণ্য থাকে না। অনেককে ফিরে যেতে হয়।’

সরকারের ট্রাকসেল কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে চার থেকে ছয়টা ট্রাক বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সেল আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।’

সূত্র: বণিক বার্তা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়