আদনান হোসেন, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল হাতে অনশনে বসেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। তিনি দাবি করছেন, প্রেমিকের সঙ্গে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হয়েছে এবং তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে হবে। স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপ জেলার শ্রীরামপুর গ্রামে প্রেমিক মো.জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন সাদিয়া আরফিন (ছদ্মনাম)। অভিযোগ, তাকে ঘরের ভেতরে রেখে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে চলে যান। পরে তিনি বারান্দায় বসে অনশন শুরু করেন।
সাদিয়া সূতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ও জুয়েল দুজনেই গণবিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। সাদিয়ার ভাষ্য, তিন বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বন্ধুকে সাক্ষী রেখে স্থানীয় এক হুজুরের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে জুয়েল পরিচিত এক চিকিৎসকের মাধ্যমে গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন।
সাদিয়া আরও জানান, কিছুদিন আগে জুয়েল তাকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার মা পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে সম্প্রতি জুয়েল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। উপায় না দেখে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।অভিযুক্ত জুয়েল একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয় ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো.জালাল উদ্দিন বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকাবাসী জানেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এস.আই) মো. মাসুদ বলেন, বিয়ের দাবিতে এক তরুণীর অনশনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগী বা তার পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।