শিরোনাম
◈ ৬ মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করলো বাংলাদেশ ◈ আগে ঘুস ছিল ১ লাখ, এখন লাগে ১০ লাখ: আজম জে চৌধুরী ◈ পদত্যাগ করলেও মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসা ছাড়েনি আসিফ ও মাহফুজ ◈ ডিম হামলা, হাতাহাতি, ভাঙচুর; ভোটের মাঠে কথার লড়াই কি সংঘাতে গড়াচ্ছে? ◈ স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো: সাদ্দাম (ভিডিও) ◈ চাঁদে আঘাত হানতে পারে বিশাল গ্রহাণু, হতে পারে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টি ◈ তারেক রহমানের পাশে বসা ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদল সভাপতি ◈ বিএনপি সরকার গঠন করলে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার আশা করি: জি-২৪ ঘণ্টাকে শেখ হাসিনা ◈ রমজানে মক্কা–মদিনায় তারাবিহ হবে ১০ রাকাত, সিদ্ধান্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের ◈ বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যু

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১০ রাত
আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হু হু করে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ছে কেন?

দেশের বাজারে আবারও রেকর্ড ভাঙল সোনার দাম। ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়া এবং চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিপাকে, তখনই বিনিয়োগকারীদের ভরসা হয়ে ওঠে সোনা। সেই চেনা চিত্রই আবারও দেখা যাচ্ছে বিশ্ববাজারে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়েছে। 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কেবল বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা নয়; বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও নীতিগত অস্থিরতার সম্মিলিত প্রতিফলন।

রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা
চলতি বছরের প্রথম ২৬ দিনেই সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালে সোনার দাম লাফিয়ে বেড়েছিল ৬৫ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। এই ধারাবাহিক উত্থান ২০২৬ সালেও থামেনি, বরং নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

গত রোববার রাতে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৫ হাজার ডলারের সীমা ছুঁয়ে ফেলে। মঙ্গলবার তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৮১ ডলারের বেশি।

অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয়
সোনা বরাবরই 'সেইফ হ্যাভেন' বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাণিজ্যযুদ্ধ কিংবা বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ও মুদ্রার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে সোনার দিকে ঝোঁকেন।

বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ সেই অনিশ্চয়তাকেই আরও তীব্র করেছে।

ট্রাম্প ফ্যাক্টর: রাজনীতি থেকে বাজারে ঢেউ
বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, সোনার সাম্প্রতিক উত্থানের কেন্দ্রে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি, গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান, সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত দোলাচল বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি। এসব পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘটনাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যখন একটি দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

সুদহার, ডলার ও মূল্যস্ফীতি
সোনার দামের পেছনে অর্থনৈতিক কারণও বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমার প্রত্যাশা, ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতা, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি, এসব কারণে সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সুদহার কম থাকলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগব্যয় কমে যায়, ফলে চাহিদা বাড়ে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও ব্যাপক হারে সোনা কিনছে। ডলার-নির্ভরতা কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিরাপদ রাখতে তারা সোনাকে বেছে নিচ্ছে। এই 'ডি-ডলারাইজেশন' প্রবণতা সোনার দামে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করছে।

বাজারের গতি ও মনস্তত্ত্ব
সোনার দাম যখন ৫ হাজার ডলারের মতো মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে, তখন নতুন বিনিয়োগকারীরাও বাজারে ঢোকেন। এতে দাম আরও দ্রুত বাড়ে। ফিউচার্স ও ইটিএফ বাজারে লেনদেন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করছে।

সামনে কী হতে পারে?
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা ও ইউরোপের বড় কিছু ব্যাংক মনে করছে, অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে দাম ৬ হাজার ডলারও ছাড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার এই 'হু হু' মূল্যবৃদ্ধি কোনো একক ঘটনার ফল নয়। বরং রাজনীতি, অর্থনীতি, নীতিগত অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব, সবকিছু মিলেই সোনাকে আবারও বিশ্ববাজারের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছে।

বিশ্ব যত অস্থির, সোনার ঝলক তত  উজ্জ্বল, এই বাস্তবতাই এখন প্রতিফলিত হচ্ছে বাজারে। উৎস: ডেইলি স্টার।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়