মনজুর এ আজিজ: অর্থের জোগান সীমিত হলেও ব্যয়ের চাপ তীব্র হওয়ায় হন্যে হয়ে টাকার সংস্থানে সরকার। আর সে কারণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লাফিয়ে বাড়ছে ঋণ। গেল অর্থবছরের ১১ মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার যে ঋণ নিয়েছে, শুধু শেষ মাস জুনেই নিয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের ঋণ ছিল ২৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। আর শেষ মাস জুনে ঋণ নেয় ৪৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থবছরের শুরু ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।
জানা যায়, আমদানি ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় চালাতেও দরকার অর্থ। তবে, চাহিদার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ আয় কম হওয়ায় বৈদেশিক ঋণ এবং ব্যাংক ঋণে ঝুঁকছে সরকার। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকারের অর্থ এলেও সুদ ব্যয় বাড়ায় তা অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার কঠিন হচ্ছে।
এর আগে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা কম ছিল। উল্টো আগের নেয়া ধার পরিশোধ করেছে সরকার। তবে, সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে যে ঋণ নেয়া হয়েছে, তা গেল তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে জোগান দেয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তিনি। আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
ঘাটতির এই পরিমাণ আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি। অভ্যন্তরীণ উৎস ও বৈদেশিক ঋণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। ফলে এই অর্থবছরে ব্যাংক থেকেই ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবার বিদেশ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৫ কোটি ঋণ করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থবছরের শেষ দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে যায়। কারণ বরাদ্দকৃত অর্থ সব ব্যয় করতে হয়। পাশাপাশি সুদের হার কমানো ও নানা কড়াকড়ি আরোপের কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। সেখান থেকে আর আগের মতো ঋণ পাচ্ছে না সরকার। এ জন্য সরকার এবার ব্যাংকঋণে ঝুঁকেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে সরকারকে সঞ্চয়পত্রনির্ভরতা কমাতে হবে। না হলে সুদ ব্যয় বাড়বে।