শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ০২:০৭ দুপুর
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ০২:০৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জৈব সার তৈরি করে সফল উদ্যোক্তা রুহুল আমিন 

এ এইচ সবুজ, গাজীপুর: [২] জেলার শ্রীপুর উপজেলায় জৈব সার তৈরি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে রুহুল আমিন নামে এক যুবক। এখন তিনি জৈব সার কারখানার মালিক। তিনি শিল্প অধ্যুষিত শ্রীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে তুলেছেন এগ্রোটেক অর্গানিক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড নামের জৈব সার কারখানা।

[৩] প্রথমে তিনি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আজুগীরচালা এলাকার নিজ গ্রামে ২০১৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ছোট পরিসরে জৈব সার তৈরি শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর (বারি) এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জৈব কৃষি গবেষক ড. নাজিম উদ্দিনের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে ২০১৭ সালে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বদনীভাঙা এলাকায় দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেন জৈব সার কারখানা। 

[৪] এর আগে রুহুল আমিন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) একাধিকবার উচ্চমানের জৈব সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কয়েক বছরের ব্যবধানে উদ্যোক্তা রুহুল আমিনের জৈব সার কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছেন। এখানে কাজ করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। শ্রমিকদের ভেতরে কয়েকজন নারী শ্রমিকও রয়েছে। তার কারখানায় ২০২২ সালে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদন করেন। প্রতি কেজি পাইকারি হিসেবে ৬-৭ টাকা করে বিক্রি করেছেন। একই সালে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জৈব সার বিক্রি করেন উদ্যোক্তা রুহুল আমিন।  

[৫] এদিকে চলতি অর্থবছরে প্রতি কেজি জৈব সার পাইকারি হিসেবে ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ২০২৩ সালে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার সার বিক্রির আশা করছেন রুহুল আমিন। এই সার রাজধানীর ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, রংপুর, বগুড়া, ঠাঁকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, মাগুরা, খুলনা, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। রয়েছে ভালো চাহিদা। 

[৬] সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জৈব সার উৎপাদনে অন্যান্য যে কাঁচামাল এর মধ্যে ট্রাইকো ডার্মা, এবং গাজীপুর বারি ইমু-১ ও ২ সমৃদ্ধ, গোবর, মুরগির বিষ্টা, আখের গাদ, ছাই, চিটাগুড়, কাঠের গুঁড়া, সবজির উচ্ছিষ্ট, হাড়ের গুঁড়া, শিং এবং কুচিসহ এসব কাঁচামাল একত্র করে পর্যায়ক্রমে সেডে পচন ক্রিয়ার মাধ্যমে ৪৫-৫৫ দিনের মধ্যে উৎকৃষ্টমানের জৈব সার বানানো হয়। 

[৭] এ বিষয়ে জানতে চাইলে সফল উদ্যোক্তা রুহুল আমিন জানান, সরকারি-বেসরকারিভাবে যদি কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করে, সার ব্যবসায়ীদের জৈব সার বিক্রির জন্য রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সারের পরিমাণ নির্ধারিত করে দেয় এবং জৈব সারের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তাহলে কৃষক এই সার ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন। 

[৮] এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বলেন, জৈব সারে রয়েছে নানান উপকারিতা। ফলন বৃদ্ধি ও গুণগত মান বাড়ায়, সব ঋতুতে সকল ফসলে ব্যবহার করা যায়। জৈব সার বীজের অংকুরোদগমে সহায়তা করে, মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, মাটির গঠন ও প্রকৃত গুণ রক্ষা করে, মাটির উপকারী জীবাণুগুলোর বংশবৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ায়। জৈব সার ব্যবহারের ফলে আনুপাতিক হারে রাসায়নিক সারের মাত্রা কমানো যায়, রাসায়নিক সারে যে ফসল উৎপাদন করা হয় তা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়