শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:২৮ দুপুর
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:২৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

 প্রতিবন্দী রবিউলের অনশন

ইউএনওসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতের নোটিশ

 প্রতিবন্দী রবিউল

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে নেমেছেন প্রতিবন্দী রবিউল। স্কুলের জমি সংক্রান্ত মামলায় বকশীগঞ্জ উপজেলা  নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারসহ ৭জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জামালপুরের বিজ্ঞ আদালত।

একটি চিরস্থায়ী নিষেধজ্ঞা মামলার বিবাদী হিসেবে (২৩ নভেম্বর) বিজ্ঞ আদালত তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। ৭ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলেছেন আদালত। উপজেলার পাখীমারা গ্রামের রবিউল আলমসহ ১১জন বিবাদী করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখীমারা গ্রামের রবিউল আলমসহ ১১জন চরকাউরিয়া মৌজার বিআরএস এর ১৬৬৮নং খতিয়ানের বিআরএস ৩০৭২ নং দাগের ২৩ শতক জমির মালিক। কিন্তু বিবাদীরা উল্লেখিত জমিতে জিগাতলা পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন। বাদীরা ভবন নির্মাণে নিষেধ করলে বিবাদীরা প্রকাশ্যে বাদীদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ।

ঘটনায় প্রতিবন্ধী রবিউল আলমসহ ১১জন বাদী হয়ে জামালপুরের বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫২৫/২২।

মামলায় বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিটা আক্তার লিজা, প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিনা বেগম, শিক্ষক নার্গিস আক্তার ও খোকন মিয়াকে বিবাদী করা হয়েছে।

জামালপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহা পরিচালক,  একই মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় পরির্দশক ও চেয়ারম্যান বিবাদী করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত  দায়েরকৃত মামলার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।

রবিউল আলম জানান, উল্লেখিত জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ও ওয়ারিশ সূত্রে  মালিক। আমরাও নাগরিক হিসেবে সরকারের প্রয়োজনে দিতে বাধ্য। কিন্তু জোর করে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি ।

জিগাতলা পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিটা আক্তার লিজা জানান, ১৯৪৩ সালে  স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত ।পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন করা হচ্ছে। স্কুলের জমিতেই নতুন ভবন হচ্ছে। কারও জমি জবর দখল করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, ১৯৪৩ সালে জিগাতলা পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এর পর থেকেই উল্লেখিত ভূমিতে স্কুলের যাবতীয় কার্যক্রম চলেছে।কাগজপত্র না থাকলেও দখলীয় সূত্রে জমির মালিক জিগাতলা পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রশিদা বেগম জানান, প্রধান শিক্ষককে জমির মালিকানার কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। দলিলপত্র পেলেই সব কিছু পরিস্কার হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন মুন জাহান লিজা বলেন , বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর মামলার বাদীরা কাজে বাধা দেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্কুলের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করেই পুরাতন ভবনের স্থানেই  নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়