শিরোনাম
◈ ১৯৭০ দশকের চে‌য়েও বিশ্বব‌্যাপী জ্বালা‌নি তেল সংকট ভয়াবহ হ‌তে পা‌রে ◈ ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট ◈ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচির সঙ্গে ফোনে যে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ◈ এবার যে কারণে শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া! ◈ দেশের বাজারে টানা চার দফা বাড়ার পর কমেছে স্বর্ণের দাম! ◈ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধই থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে ◈ ভারতীয় তারকার প্রশংসা করতে গিয়ে ‘অপভাষা’র ব্যবহার! র‌বি শাস্ত্রীর কাণ্ডে শোরগোল ◈ সমান তালে লড়ছে ইরান, প্রত্যক্ষভাবে পাশে নেই কেউ ◈ ভারতীয় বোর্ডের বিশেষ পরিকল্পনা, দ্রুতই বৈভব সূর্যবংশীর টিম ইন্ডিয়ায় অভিষেক হচ্ছে ◈ এবার ইরানকে যে সুখবর দিল ফ্রান্স, বেকায়দায় ইসরাইল!

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৫:২৫ বিকাল
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৫:২৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ শেরপুরের সূর্যদী গণহত্যা দিবস

তপু সরকার : ২৪ নভেম্বর, শেরপুরের সূর্যদী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় পাক হানাদার বাহিনী এবং আলবদর ও রাজাকাররা হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হত্যা করে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে। পুড়িয়ে ছাই করে দেয় প্রায় দুইশ’ ঘরবাড়ি। বছর ঘুরে এ দিনটি এলেই স্বজন হারানোর বেদনায় ভারাক্রান্ত হন সূর্যদী গ্রামবাসী।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৭১ সালের এদিন সকাল ৮টায় সূর্যদী গ্রামে জিপ আর ট্রাক বোঝাই পাক হানাদার বাহিনী গ্রামটিতে হামলা চালায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের আলবদর প্রধান মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নির্দেশে স্থানীয় রাজাকারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলা চালানো হয়। 

এলাকার লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হানাদার বাহিনী ছুঁড়তে থাকে এলোপাতাড়ি গুলি।সেসময় হানাদার বাহিনীর হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে নিজেদের নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও আত্মগোপনে থাকা ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মাত্র ছয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব আলী, আবদুল খালেক, ফজলুর রহমান, হাবীবুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন ও আবুল হোসেন সামনে এগিয়ে যান। এদিকে স্কুল মাঠে লাইনে দাঁড় করানো নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করার নির্দেশ দেয় পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তা।

ওইসময় গ্রামের একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা পার্শ্ববর্তী খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন দূর থেকেই ফাঁকা গুলি করতে থাকেন। গুলির আওয়াজ পেয়ে পাকবাহিনীরা লাইনে দাঁড় করানো লোকদের ফেলে রেখে ছুটে যায় তার সন্ধানে। পরে মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন ও সূর্যদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে একটি ধানক্ষেতে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা। সেইসাথে শহীদ হয় গ্রামের মোট ৪৯ জন।

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছর পর ২০২১ সালের ১৮ মার্চ সূর্যদী এ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পর উদ্বোধন করা হয়।

সূর্যদী যুদ্ধ ও গণহত্যা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এম এ হাসেম জানান, দিনটি উপলক্ষে সূর্যদী এলাকায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত শহীদদের কবরগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি তার।

প্রতিনিধি/জেএ

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়