রতন কুমার রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে সাতটি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। উক্ত ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ডোমার সদর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকান্ডে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দাবী,মাগরিবের আজানের পরেই বৈদ্যুতিক খুঁটিতে শর্টসার্কিট হয়। এতে আগুন দ্রুত বসত ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে একে একে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসকে কল দিলে তারা ১ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর মেশিন চালু করতে আরও ৩০মিনিট সময় লেগে যায়। এ সময় বিদ্যুৎ অফিসের সাথে যোগাযোগ করলেও বিদ্যুত বন্ধ করতেও প্রায় আধাঘণ্টা বিলম্ব হয়।এসময় মাঝাপাড়া একালার মৃত কামরুল হুদার ছেলে মো. রাবেল ও মো. রুবেল, নুরল হুদার ছেলে লিটন ও লিজু, সামছুল হুদার ছেলে জুয়েল এর বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্থ রুনা বেগম জানায়, ফায়ার সার্ভিস যখন আসে তখন একটি ঘরে আগুন জলছিলো। কিন্তু তাদের মেশিন স্ট্যার্ট দিতে দেরি হওয়ায় নিমিষেই বাকি সব ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের কারনেই আজ আমাদের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ রাবেল আহমেদ জানায়, 'আগুনে পুড়ে ঘরের সোনা গহনা, জিনিসপত্র মিলে প্রায় ২০লাখ টাকার বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। ফায়ার সার্ভিস দেরি না করলে হয়তো আমাদের এতো ক্ষয়ক্ষতি হতো না।
শিশু লামিশা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, আমার সাইকেল টা পুড়ে গেছে।অনেকগুলো জামা কাপড়ও পুড়ে গেছে।
স্থানীয় সাজেদুল ইসলাম জানায়, 'ফায়ার সার্ভিস এর আগেও ডোমারের এক জায়গায় আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মেশিনের এমন সমস্যা হয়েছিলো। ততক্ষনে ওই অগ্নিকান্ডে সব শেষ হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের এমন উদাসীনতার কারনে মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।'
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করেন ডোমার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুক্তি মাহমুদ। তিনি বলেন, রাস্তা খারাপ হবার কারনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে কিন্তু সেটাও সামান্য সময়।