ইফতেখার আলম বিশাল : রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের থাকার কক্ষ থেকে ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, একটি ট্রাকে করে গাঁজার চালানটি সেখানে আনা হয়েছিল। চালানের একাংশ আগেই বিক্রি করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপশহর ২ নম্বর সেক্টরে সরকার বিল্ডার্সের একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের থাকার টিনশেড কক্ষে অভিযান চালিয়ে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, পবা থানার বাগধানী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সহির ইসলাম (২৪), গোদাগাড়ী থানার পালপুর ধরমপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রায়হান (২০) এবং তানোর থানার চান্দুড়িয়া গ্রামের হারুনুর অর রশিদের ছেলে রায়হান। শেষোক্ত ব্যক্তি সরকার বিল্ডার্সের সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।
বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সামা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপশহর ২ নম্বর সেক্টরের ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শ্রমিকদের থাকার একটি টিনশেড কক্ষে তল্লাশি চালাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা প্রথমে ঘরের তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি বস্তায় রাখা ১২টি প্যাকেট থেকে মোট ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, একটি ট্রাকে করে গাঁজার চালানটি সেখানে আনা হয়েছিল। চালানটিতে তিনটি বস্তা ছিল। এর মধ্যে একটি বস্তার গাঁজা আগেই বিক্রি করা হয়েছে। বাকি দুই বস্তার গাঁজাও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তারি বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। তাঁকে বাসা থেকে ডেকে আনা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে থানায় নেওয়ার সময় তাঁর হাতেও হাতকড়া পরানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তিনি কী কারণে এই মাদক চালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহের মুখে পড়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) গাজিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, নির্মাণাধীন ভবনটি কীভাবে মাদক সংরক্ষণ ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং চালানটির মূল উৎস ও গন্তব্য কোথায়—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।