বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারের মধ্যে সরকারি সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার ( ১৭ অক্টোবর) ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সবার নৈতিক দায়িত্ব। মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রজনন মৌসুমে সরকারের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। এ সময় নদীতে জাল ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, একটি মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক ইলিশের জন্ম নিশ্চিত করতে পারে। সাময়িক লাভের কথা চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথা ভাবতে হবে। ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে জেলেরা আরও বেশি মাছ আহরণের সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের জীবিকা ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা, জাল ফেলা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিসহ নিষিদ্ধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক জেলের দায়িত্ব। পাশাপাশি অন্য জেলেদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করছে। জেলেদের এ সহায়তা কাজে লাগিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা, জেলেদের জীবিকা, সরকারি সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে তিনি জেলেদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারের মধ্যে সরকারি সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়।