গাজীপুরের শ্রীপুরে ময়লার স্তূপে পাওয়া ককটেল-সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণে ফার্নিচার ব্যবসায়ীর নুর মোহাম্মদের (৪৫) বাঁ হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খবর পেয়ে এসআরবি গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্য, এসআরবির ঢাকা বোমা ডিসপোজাল টিম ও শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত নুর মোহাম্মদ ওই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী। বিস্ফোরণে আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ফার্নিচার ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ দোকানের পাশের ময়লার স্তূপের কাছে প্রস্রাব করতে গিয়েছিলেন। পরে ময়লার স্তূপের ককটেল-সদৃশ বস্তু পড়ে থাকতে দেখে তিনি সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরক জাতীয় বস্তুটিকে চিনতে না পেরে সেফটি রিং টান দিয়ে খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তার বাম হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমান তিনি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, দোকানের পেছনে প্রস্রাব করার সময় এক ব্যক্তি ময়লার স্তূপ থেকে একটি প্লাস্টিক বা কৌটার মতো বস্তু হাতে নিয়ে দোকানের সামনে আসেন। সেখানে বসা কয়েকজন এটিকে নাড়াচাড়া করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এক ব্যক্তি বস্তুটি নাড়াচাড়া করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ সময় তার তিনটি আঙুল উড়ে যায়। এটি কোনও ককটেল বা পেটি না হলেও প্লাস্টিকের তৈরি কোনও গোল কৌটা। বোমা কিংবা প্লাস্টিকের হ্যান্ড গ্রেনেড জাতীয় কিছু হতে পারে। ককটেল-সদৃশ বস্তুটি সেখানে কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার দেবজিত পাল বলেন, বোমা ডিসপোজাল টিমের তথ্যমতে এটি ৫ আগস্টে থানা থকে হারানো পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড। বোমা ডিসপোজাল টিম এবং এসআরবি গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।