হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও চলন্ত মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হোগলাকান্দী গ্রামের শাহা বিশ্বাসের ছেলে মোহন বিশ্বাস (২০) ও একই গ্রামের রবি মাতুব্বরের ছেলে তায়েব মাতুব্বর (২১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ভিকটিমের প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে ভিকটিম তার বান্ধবীর সঙ্গে বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে স্থানীয় ছিরু মোল্লার দোকানের সামনে থেকে বান্ধবী বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা আসামি মোহন বিশ্বাস ভিকটিমাকে তার সঙ্গে যেতে বলেন। রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
পরে ভাঙ্গা চৌরাস্তার দিকে যাওয়ার পথে চলন্ত মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে নিয়ে মোহন বিশ্বাস ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। এরপর অপর আসামি তায়েব মাতুব্বরও তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার খাড়াকান্দি এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারের পাশে তাকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইলিয়াস হোসেন দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সাজা দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।