কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও দুই প্রার্থীর নিয়োগ হয়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশনও শেষ হওয়ার পর নিয়োগ না হওয়ায় কারণ জানতে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরছেন তাঁরা।
নিয়োগ না হওয়া দুই প্রার্থী হলেন নবীনগরের জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়া। তাঁদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। এরপরও কেন নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
জুবায়েরুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের। নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর চাকরি নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগ না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
রুবেল মিয়া বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও এলাকার লোকজনকে চাকরি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এখন নিয়োগ না হওয়ায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
জুবায়েরুল ও রুবেল জানান, নিয়োগের কারণ জানতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। তাঁরা নিজেদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। কোনো ঘাটতি না থাকলে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাঁদের নিয়োগ দেওয়ারও দাবি তাঁদের।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বলেন, এবারের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর দুজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। বিভিন্ন কাগজপত্রের জটিলতা বা মামলা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কেউ বাদ পড়তে পারেন। নিয়োগের বিষয়ে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে নির্দেশনা আসে।
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যের পরও জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়ার অভিযোগ, তাঁদের ক্ষেত্রে কী ধরনের জটিলতা পাওয়া গেছে বা কী কারণে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের জানানো হয়নি।
নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এই দুই প্রার্থী। তাঁরা তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা এবং অভিযোগ বা কোনো ঘাটতি থাকলে তা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।