রেলওয়ের ভুল এসএমএসের কারণে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শতাধিক যাত্রী। রাত ১০টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা দেরিতে রাত ১১টায় ট্রেন ছাড়বে— এমন বার্তা পাওয়ার পর যাত্রীরা দেরিতে সিলেট স্টেশনে পৌঁছান। তবে নির্ধারিত সময় রাত ১০টাতেই ট্রেনটি সিলেট ছেড়ে যাওয়ায় তারা ট্রেনটি ধরতে পারেননি।
শনিবার রাতে যাত্রীদের মোবাইল ও অনলাইন বার্তায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, সিলেট স্টেশন থেকে রাত ১০টার উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) এক ঘণ্টা বিলম্বে রাত ১১টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ওই বার্তার ওপর নির্ভর করে অনেক যাত্রী রাত ১১টাকে কেন্দ্র করে স্টেশনে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেন। কিন্তু পরে সময়সূচি ঠিক হয়ে যাওয়ায় উদয়ন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই সিলেট থেকে ছেড়ে যায়।
ফলে শতাধিক যাত্রী সিলেট স্টেশনে আটকা পড়েন। তাদের কুলাউড়ায় নিয়ে এসে উদয়ন এক্সপ্রেসে তুলে দিতে ট্রেনটি কুলাউড়া জংশন স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে। রাত ১১টা ১৪ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস কুলাউড়ায় পৌঁছানোর পর যাত্রা মিস করা যাত্রীদের জন্য সেটি সেখানে অপেক্ষমাণ থাকে।
সিলেটে আটকে পড়া যাত্রীদের পরে ঢাকা অভিমুখী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ (৭৪০) ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। তারা উপবন এক্সপ্রেসে কুলাউড়া পৌঁছালে সেখান থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসে স্থানান্তর করা হয়।
সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেসে করে যাত্রীরা কুলাউড়ায় পৌঁছানোর পর রাত সোয়া ১টার দিকে উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করে। এ সময় কুলাউড়া জংশন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
সিলেটে আটকে পড়া যাত্রী মিনহাজ আহমদ বলেন, রেলওয়ে নিজেই ভুল মেসেজ দিয়ে আমাদের হয়রানি করল। এখন মাঝরাতে অন্য ট্রেনে চেপে কুলাউড়া গিয়ে আবার ওই ট্রেন ধরতে হচ্ছে। এই ভোগান্তি ও দায়িত্বে অবহেলার দায় কে নেবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী মাসুম বিল্লাহ লেখেন, এক দিন আগে আমাকে জানানো হয়েছিল, শনিবার উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ১০টার পরিবর্তে ১১টায় ছাড়বে। তিনি রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনে পৌঁছালেও রাত ১০টায় ট্রেন ছেড়ে যায়।
কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রোমান আহমদ জানান, শুক্রবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিল। ফলে সিলেট-চট্টগ্রামগামী ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে আগেই যাত্রীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। পরে সময়সূচি ঠিক হয়ে যাওয়ায় উদয়ন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই সিলেট থেকে ছেড়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে সিলেটে থেকে যাওয়া যাত্রীদের উপবন এক্সপ্রেসে করে কুলাউড়ায় আনা হয়। তাদের জন্য উদয়ন এক্সপ্রেসকে কুলাউড়া স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে রাত ১টার পর ট্রেনটি কুলাউড়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।