শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে সিজারে পেটে গজ: ৪ মাস ধরে সিসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নার্স বিথী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রোগীর পেটের ভেতর গজ (মব) রেখে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকদের চরম অবহেলার শিকার হয়ে গত চার মাস ধরে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বিথী আক্তার নামের এক শিক্ষানবিশ নার্স। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের সিসিইউতে (CCU) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিথী আক্তার ফরিদপুর ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসকদের এই ভুলের কারণে দীর্ঘদিন হাসপাতালে শয্যাশায়ী থাকায় তার ইন্টার্নশিপ ও লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

advertisement

পরিবার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না ও ডা. অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর থেকেই তিনি তীব্র পেটব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হলে পেটের ভেতর গজ (মব) থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

নিজের আকুল আর্তনাদ ও চিকিৎসকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা তুলে ধরে বিথী আক্তার বলেন, “অপারেশনের পর আমার পেটে গজ থেকে যাওয়ায় ইনফেকশন হয়ে পেটের নাড়ি পচে যায়। পরে বাধ্য হয়ে আমার বাইপাস সার্জারি করতে হয়েছে। আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়ালেখা করিয়েছেন, কিন্তু আজ আমার পুরো জীবনটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমি ভবিষ্যতে কাজ করে কিছু খেতে পারব কিনা সেটাও জানি না।”

advertisement

চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর ডাক্তারদের পেছনে অনেক ঘোরাঘুরির পর একপর্যায়ে তারা এসে আমার হাতে মাত্র ৫,০০০ টাকা ধরিয়ে দেয়। তারা আমাকে বলে—‘ভুল তো হয়েই গেছে, এমন ভুল তোমার কাছ থেকেও তো হতে পারতো!’ এভাবে নানান কথা বলে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।”

চার মাস পার হলেও সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, বিথী আক্তার বর্তমানে হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত এবং তাকে আবারও অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। সিজারের আগে তার ওজন ৬১ কেজি থাকলেও বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯ কেজিতে। এই দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এই মা।

advertisement

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বিথী আক্তারকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা ও পেটের অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত নানা তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিথী আক্তার ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, “আমি নিজে নার্স হয়েও যদি এই চিকিৎসার অবহেলার শিকার হই, তবে সাধারণ রোগীদের কী অবস্থা হবে? আমি বাঁচব কি না জানি না, আমার নিষ্পাপ শিশুটার কী হবে?”

এদিকে, ঘটনার অনুসন্ধানে ও হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তামান্না গত এক মাস ধরে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বিথী আক্তারের স্বামী রাকিবুল ইসলামসহ তার স্বজনেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী চিকিৎসকদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

  • সর্বশেষ