শিরোনাম
◈ রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতায় বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ, কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? ◈ নারীর ৪ টুকরো মরদেহ উদ্ধার আদাবরে, পাওয়া যায়নি দুই পা ◈ বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে নৌকায় দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ◈ লোহিত সাগরে উত্তেজনা: হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের কথা ভাবছে সৌদি ◈ পানি বণ্টন চুক্তি: কারিগরি দল গঠন, ভারতকে শিগগিরই জানাবে সরকার ◈ মাস্তা‌নের হা‌তে মে‌সির রেকর্ড ব্রেক   ◈ ব্রিকসের মঞ্চে চীনা প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা ◈ শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার (ভিডিও) ◈ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তাকে বদলি  ◈ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত নবম পে-স্কেল নিয়ে, আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৮ বিকাল
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে পদ্মা-মধুমতির ভয়াল থাবা, ৫ উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: পদ্মা ও মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের পাঁচটি উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। তীব্র স্রোত ও নদীর আগ্রাসী রূপে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ।

নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা। মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভাঙনের কবলে পড়ে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন চাপুলিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দারা। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে কেউ কেউ বর্তমানে পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙন অব্যাহত থাকলে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা, মোকছেদ মোল্লা এতিমখানা মাদ্রাসা, স্থানীয় মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান ও একটি পোস্ট অফিসও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শুধু বসতভিটা নয়, এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে।

পদ্মার ভয়াল আগ্রাসনে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ও ডিক্রীরচর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকাতেও দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, অনেক পরিবার ঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আগেই নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

কেউ টিনের চাল খুলে নিচ্ছেন, কেউ ঘরের খুঁটি ও দেয়ালের ইট সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। চোখের সামনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের রাত কাটছে আতঙ্কে। অনেকেই জানেন না, পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের বসতভিটার অস্তিত্ব থাকবে কি না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে একদিকে যেমন বসতভিটা হারানোর শঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামালও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলাতেও নদীভাঙনের চিত্র ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ঢেউখালি, চর নাসিরপুর, গাজীরটেক ও চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জায়গা ভাঙনের কবলে পড়ছে।

অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ ও এর শাখা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ও বসতভিটা দ্রুত নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বসতভিটা, কৃষিজমি ও অবকাঠামো রক্ষার তীব্র সংকট।

নদীভাঙনের শিকার মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা ও পানি বৃদ্ধির সময় নদীভাঙন তীব্র হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সাময়িকভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করছেন তারা।

সার্বিক নদীভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই দিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি জানান, নদীতীর সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, শুধু সাময়িক জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব না হলে পদ্মা ও মধুমতির আগ্রাসনে ফরিদপুরের আরও বহু গ্রাম, কৃষিজমি ও বসতভিটা চিরতরে নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী মানুষ। তাই ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • সর্বশেষ