বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)রাতে অভিযোগটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির কনিকা মণ্ডল। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে অভিযোগটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কনিকা মণ্ডল বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার কনিকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন। তবে বাড়িজুড়ে ছিল শোকের পরিবেশ। বারান্দায় কনিকার দেড় মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বোন দীপিকা বিশ্বাস দীপা। পাশে ছিলেন কনিকার আরও দুই সন্তান। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানি দত্ত তার স্ত্রীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেন। পরে কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
কনিকার ছেলে পার্থ মণ্ডল বলেন, মায়ের মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান বিশ্বাস অভিযোগ করেন, চিকিৎসাসেবায় অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।