নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া নিয়ে এ ঘটনা ঘটে । এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান তারা। উভয়পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে ছাত্রদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত।
অন্যদিকে, ছাত্রদল কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তোলারাম কলেজ শাখার ছাত্রদল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।
তিনি বলেন, তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উশৃংখল বক্তব্য দিয়ে গেছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল, সহাবস্থানে আছে। কোনো উশৃংখলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে। জেলা পুলিশের ডিবি প্রধান হাসিনুজ্জামান বলেন, তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।