শিরোনাম
◈ শহীদের আত্মত্যাগে গড়া জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ◈ ত্বক ফর্সাকারী ৮ ক্রিমে বিষাক্ত মার্কারি, ব্যবহার না করার আহ্বান ◈ সিঙ্গাপুরে চালু হলো প্রবাসীদের জন্য এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন সেবা চালু ◈ এবার নেইমার অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন ◈ মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশিকে হত্যা, সহকর্মী গ্রেপ্তার ◈ রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, ঢামেকে আহত ৭ ◈ শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত ◈ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে জিপিএস প্রযুক্তি ◈ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য থেকে এআই : বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব ◈ মার্কিন নৌবহর কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩১ বিকাল
আপডেট : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নবীনগরে দেড়শ বিঘায় নতুন সম্ভাবনার আউশ আবাদ

সোলার সেচে অনাবাদি জমিতে ফিরল চাষ

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : বোরো মৌসুম শেষে বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকত জমিগুলো। সেচের অভাব আর উৎপাদন ব্যয়ের কারণে কৃষকেরা আউশ ধান চাষে আগ্রহী ছিলেন না। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং কৃষকদের অংশগ্রহণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় দেড়শ বিঘা অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন দুলছে পাকা ধানের সোনালি শীষ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার দোলাবাড়ী, সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় চলতি মৌসুমে নতুন করে আউশ চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ (FREAP) প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষিজমিতে নিয়মিত সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দোলাবাড়ী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পেকে গেছে আউশ ধান। কৃষকেরা কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেখানে একসময় জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সবুজ থেকে সোনালি হয়ে ওঠা ধানের ক্ষেত নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। এ এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

দোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “আগে সেচের ব্যবস্থা না থাকায় এই জমিতে আউশ চাষ করা যেত না। এখন সোলার সেচের কারণে কম খরচে নিয়মিত পানি পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

সাতমোড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ বলেন, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হয়। তিনি সেই বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, “গত বছরের ফলন ভালো হওয়ায় নিজের সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরও কয়েকজন কৃষক বীজ নিয়ে আউশ চাষ করেছেন। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিও হয়েছে। তাই ফলনের আশা ভালো।”

পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরিকল্পনায় দোলাবাড়ী ব্লকে নতুন করে আউশ আবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগামীতে আরও অনাবাদি জমিকে আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সোলার সেচ ব্যবস্থার আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে ৭৫ বিঘা জমিতে একসঙ্গে আউশের আবাদ হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও কমেছে।”

তিনি আরও বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় দেড়শ বিঘা অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুমের পর বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিতে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আবাদ বাড়িয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সোলার সেচ ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক অনাবাদি জমিতে আউশ চাষ সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। নবীনগরের এ উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা একত্রে কাজে লাগলে অনাবাদি জমিও হয়ে উঠতে পারে উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়