নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজ্জামেলের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে এক কাঁকড়া ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা শাহজাহান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (০৩ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ভূঁইয়ার হাট এলাকায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জহিরের কাঁকড়া আড়তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. জহির, তার ভাই মো. সোহেল, ভাতিজা মো. রাসেল'সহ স্থানীয় বাসিন্দা মারজান বেগম, পারভীন আক্তার, মহিমা খাতুন এবং চর মোজ্জামেলের ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী মো. জহির জানান, তিনি সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের একরাম নগরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাঁকড়া ব্যবসায়ী। গত দুই বছর ধরে তিনি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজ্জামেলের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে কাঁকড়ার আড়ৎ পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি তজুমদ্দিনের বিএনপি নেতা শাহজাহানের নেতৃত্বে আলমগীর মাঝি ও আব্বাস মাঝি তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে শাহজাহান ও তার সহযোগীরা তার আড়তে গিয়ে তার ভাই সোহেলের কাছে চাঁদার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
জহিরের দাবি, চাঁদা না পেয়ে শনিবার (০১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে শাহজাহান ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজেন। এ সময় তাকে না পেয়ে প্রতিবেশী আজহার আহম্মদ ও তার স্ত্রী নূর নাহারকে মারধর করা হয়। পরে তারা কাঁকড়ার আড়তে গিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে জহিরের ভাই সোহেল ও ভাতিজা রাসেলকে মারধর করে আহত করা হয়। এ সময় আড়তের ক্যাশ ভেঙে নগদ ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ৮ ঝুড়ি কাঁকড়া লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা আড়তে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলেও জানান। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চর মোজ্জামেলের ভূমিহীন বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে এলাকায় শান্তি বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে বিতাড়িত করে শাহজাহান ও তার লোকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাট শুরু করে।
এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় এমপি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।