শিরোনাম
◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১০ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হলো কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম স্থলবন্দর সোনাহাট দিয়ে ভারত হতে পাথর আমদানি অনির্দিষ্ট কালের জন‍্য বন্ধ রেখেছেন ব‍্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র  ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়‍্যার হাউজ ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোন ভারতীয় ট্রাকের দেখা মেলেনি। অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মিশিন গুলো। অধিকাংশ ডিপো পাথর শূন‍্য। ট্রাক টার্মিনাল খালি পড়ে আছে।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করতো। কিন্তু গত ৪ দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। এতে প্রতিদিন  বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন থেকে ভারতীয় ব‍্যবসায়ীরা যে পাথর দিচ্ছে তা গুনগত মানের দিক থেকে অত‍্যান্ত খারাপ। 

Advertisement

এছাড়াও রিভার স্টোন বোল্ডার না দিয়ে দিচ্ছে ছোট পাথর। যা অটোক্রাশ মেশিনের মাধ্যমে ভাঙালে অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে  পাথরের স্বাভাবিক মাপের সাথে না মেলায় কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাচ্ছে না।

স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব‍্যবসায়ীরা হঠাৎ পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোন ১১ ডলার দাম ছিলো। যা বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩.৫ ডলার করেছে। তাতে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ লাগতেছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা।

এছাড়াও  ভারত থেকে যে পাথর আমদানি করা হয় তা সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করায়  পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালি পরিমাণ বেশি থাকায় পাথর ভাঙার পর মান খারাপ হচ্ছে।

ভারতের ব‍্যবসায়ীরা একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সর্বরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা গত ১৮ জুলাই ( শনিবার ) থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে অনির্দিষ্ট কালের জন‍্য পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

স্থলবন্দরের পাথর লোড আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী ও  আছর উদ্দিন জানান,  নিয়মিত কাজ না থাকায় কষ্টে আছেন তারা।

ফরিদুল ইসলাম  নামের এক ট্রাকচালক জানান, বন্দরে ভারত থেকে পাথর আনছেন না ব‍্যবসায়ীরা। আয় রোজগার কমে গেছে। কষ্টে আছি পরিবার নিয়ে।

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট ( ব‍্যবসায়ী) শুক্কুর আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক মাল পাঠাতাম দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় গত ৫ দিনে কোন ট্রাক বাইরে পাঠাতে পারিনি।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কারক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম জানান, ভারতের ব‍্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোন ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছে না।

স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব‍্যাপারী জানান, ভারত থেকে  চাহিদামত পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব‍্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, দু’দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ  রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

  • সর্বশেষ