শিরোনাম
◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৩ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাক্ষুসে সাকার মাছে সর্বনাশের পথে হাওর

নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার হাওর, নদী-নালা, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির রাক্ষুসে সাকার মাছ (Suckermouth Catfish)। স্থানীয় জেলেদের জালে এখন নিয়মিত ধরা পড়ছে রাক্ষুসে এ সাকার মাছ। ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব ও জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ছাতকের হলদিউরা গ্রামের শরীফ উদ্দিনের সুতার জালে সপ্তাহের ভিতরে ৩টি সাকার মাছ ধরা পরে। সে মাছটি চিনতে পারে নি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় মাছটি চিনতে পারে। গত সপ্তাহে ছাতক শহরের দক্ষিণ বাগবাড়ির আমির হোসেন রাতে মাছ শিকারে গেলে একটি সাকার মাছ শিকার করে। খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের জেলেদের জালেও বর্ষার শুরু থেকেই প্রায় সময় এ মাছটি ধরা পড়ছে বলে জেলেরা জানান।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, আগে যেসব জলাশয়ে টেংরা, পুঁটি, মলা, শিং, মাগুর, কৈসহ নানা দেশীয় ছোট মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে সাকার মাছ দেখা যাচ্ছে। এই মাছের শক্ত বর্ম, দ্রুত বংশবিস্তার এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতার কারণে দেশীয় মাছের আবাস ও খাদ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার এ মাছ উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ায় এটি দেশের নদী-নালা, হাওর ও খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সুনামগঞ্জের ছাতকের জলাশয়েও এর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

জানা যায়, পোকামাকড়, জলজ উদ্ভিদ, ছোট মাছ ও মাছের পোনা সাকার মাছের খাদ্য। আকারে মাছটির ১৬—১৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। পানি ছাড়া ২৪ ঘন্টা বাঁচতে পারে। সাকার মাছ কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। দেশীয় মাছের খাদ্য ও আবাসস্থলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ সরকার ২০২২ সালে সাকার মাছের আমদানি, প্রজনন, চাষ, বিক্রি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে। মৎস্য গবেষকদের মতে, এ মাছের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

ছাতকের হলদিউরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতলিব জানান, বিভিন্ন হাওর ও নদীতে মাছ ধরতে গেলে প্রায়ই সাকার মাছ ধরা পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য বিভাগের জরুরি নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

হলদিউরা গ্রামের আনামুল হক বলেন, এটি এক ধরণের রাক্ষুসে মাছ। পুকুর বা জলাশয়ে এ ধরণের মাছ থাকলে সেখানে অন্যান্য মাছ বিশেষ করে বড় মাছের পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ থাকতে পারে না। দ্রুত প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন এই মাছ অন্যান্য ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। প্রতিনিয়ত এ মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।

ছাতক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সালমুন হাসান বিপ্লব বলেন, দ্রুত প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন সাকার মাছটি ময়লা ও নোংরা পানিতে বেড়ে উঠে। হাওরের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। জেলেদের জালে এ মাছ ধরা পড়লে অবশ্যই মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

  • সর্বশেষ