কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া এলাকা পানিবন্দি ঘর থেকে রান্নার ডেকসি করে ৫ মাসেরসহ ৮জন নানা বয়সী শিশু এবং ৫ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮জন নানা বয়সী শিশু এবং গর্ভবর্তী বয়োবৃদ্ধ সহ ৮জন মহিলা ছিল বলে জানান বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
সারা বাঁশখালী জুড়ে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে থৈ থৈ করছে ,ও অধিকাংশ এলাকায় যোগাযোগ বিছিন্ন, তখন রাত পৌনে নয়টার দিকে হঠাৎ কল আসে উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া ব্রীজ এলাকায় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে আটকে পড়ে একটি পরিবার। খবর পেয়ে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রবল স্রোতের মধ্যে রশি বেঁধে বুক সমান পানি ডিঙ্গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ সময় ৫ মাসের শিশুদিকে উদ্ধারে নিরাপত্তার কথা ভেবে রান্নার বড় ডেকসি করে দু,পাশে ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। এ দৃশ্য ভিড়িও ধারনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি সবার নজরে আসে উদ্ধার করে তাদের চেচুরিয়া এসকেবি কনভেনশন সেন্টারে নিয়ে আসে। সেখানে স্থানীয় সমাজকর্মী মো: খালেদুল হক, তাফহীমুল ইসলাম,বৈলছড়ির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন সহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টি বর্ষণের ফলে শেখেরখিল মৌলভী পাড়ায় ঘরে আটকে পড়ে একটি পরিবার । স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরতদের খবর দিলে তারা সেখানে গিয়ে ৫ জন মহিলা ও ২ জন শিশুসহ ৭জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদ স্থানে পৌছে দেয় বলে জানান বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান।
বাঁশখালীতে একদিকে পাহাড়ি ঢল অন্যদিকে প্রবল বর্ষনের জমাবদ্ধ পানিতে পশ্চিমাংশের লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানি বন্দি রয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরন করছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন। তিনি আরো বলেন বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সখল আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধি , স্থানীয় সমাজকর্মীরা এবং সিপিপিসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে উদ্ধার সহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।