মিজান লিটন : বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা শুধুমাত্র স্মরণ করি তার জন্ম,মৃত্যু ও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে এছাড়া এ সকল গুণী ব্যক্তিদের কথা আমাদের আর মনে পড়ে না,এমন কি মনেও থাকে না।
তাদের কোন স্মৃতিচিহ্ন অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকলেও তার প্রতিও আমাদের দৃষ্টি পরে না। তেমনই একটি ঘটনা চোখে পড়েছে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ভবনের বাউন্ডারি এরিয়ার মধ্যে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের অবস্থিত চাঁদপুর রোটারী ভবনের ঢুকতেই হাতের ডান পাশে নজরুলের স্মৃতি চিহ্নিত একটি বিলবোর্ড সেখানে নজরুলের ছবি সহ বিভিন্ন তথ্যমূলক একটি বিলবোর্ড দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেটি অযত্নেও অবহেলায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। শুধু উপরের কিছু অংশে নজরুলের ছবিটি বুঝা যায় আর নিচের অংশটি একেবারেই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি চাঁদপুর রোটারি ক্লাবের কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি।
এ নিয়ে চাঁদপুরের শিল্প ও সাংস্কৃতিক জগতের সাথে জড়িত নজরুল প্রেমীদের মাঝে নানান বিতর্ক ও খোভ বিরাজ করছে।
গতকাল বুধবার (৮ই জুলাই)এই দিনটি ছিল চাঁদপুরে কাজী নজরুল ইসলামের আগমন দিবস।জানাযায়,আজ থেকে ১০৫ বছর পূর্বে ১৯২১ সালের এই দিনে কবি কাজী নজরুল ইসলাম চাঁদপুর সফরে আসেন এবং তিনি যে ভবনটিতে রাত যাপন করেন সেটি হলো চাঁদপুর ডাক বাংলো যার কারনেই এই সড়কটির নাম দেওয়া হয় কাজী নজরুল সড়ক এবং এই সড়কের পাশেই অবস্থিত চাঁদপুর রোটারি ক্লাবের ভবনটি। সেখানেই এই নজরুলের ছবি সম্বলিত একটি স্মৃতিফলক অবহেলায় অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় বর্তমানে পরে রয়েছে দেখার যেন কেউই নেই।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের অপজিটে চাঁদপুর রোটারি ক্লাবের বাউন্ডারি এরিয়ার ভিতরে এই জরাজীর্ণ স্মৃতির ফলকটি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সভাপতি এডভোকেট পলাশ মজুমদার জানায়,আসলে এই বিলবোর্ডটি অবহেলিত ভাবে পরে থাকার কথা না। আমি মাত্র সপ্তাহখানেক হয়েছে নতুন কমিটির দায়িত্ব নিয়েছি আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
এবিষয়ে ভালো বলতে পারবে ভবন কমিটির সভাপতি ও চেম্বারের সভাপতি বাবু সুভাষ চন্দ্র রায়। তখন তার সাথে ফোনে আলাপ করলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ এরিয়ে যান।
সাবেক সভাপতি ফুলমিয়ার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তিনি জানান, এখানে যে কাজী নজরুলের একটি স্মৃতির ফলক দাঁড়িয়ে রয়েছে তিনি এই প্রথম জানতে পারলেন।
এর পূর্বে তিনি কোনদিন জানতেনই না এবং তার চোখেও পড়েনি যে এখানে একটি নজরুলের স্মৃতির চিহ্ন দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারপরও তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে নতুন কমিটির সাথে আলাপ করবে যেন এটি পরিপূর্ণভাবে সংস্কার করা হয়।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, এখানে একসময় কাজী নজরুল ইসলামের চাঁদপুরের সফর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লেখা ছিল এটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে এই নজরুল সড়কটির নামকরণের গুরুত্ব এবং চাঁদপুরে বিদ্রোহী কবির আগমনের বিষয়টি সম্পর্কে চাঁদপুরবাসী অজানাই থেকে যাবে।
তাই তাদের দাবি এটি সংস্কার করে পূর্বের ন্যায় নতুন করে আবার প্রতি স্থাপন করা হোক।