নিনা আফরিন ,পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া এবং উত্তাল ঢেউয়ের তান্ডবে ৩ টি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জেলে নিখোজ রয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ৫ টি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর সৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা।
তিনি জানান, বুধবার দুপুর একটার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ৬ জেলে নিয়ে একটি ছোট মাছধরা নৌকা ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি উদ্ধার হলেও এখনো নিখোজ রয়েছেন ৫ জেলে।
এছাড়া গতকাল বিকেল পাঁচাটায় বঙ্গোপসাগরের ১৭ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জেলে নিয়ে ফকিরহাটের এফবি মহিমা নামের একটি ট্রলার ডুবে যায়। বুধবার দুপুরে ১৬ জেলেকে অন্য একটি ট্রলার উদ্ধার করে নিয়ে এলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছ দুই জেলে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে ৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী জেলেরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন।
এর আগে গত রবিবার বঙ্গোপসাগরের ৬০ কিলোমিটার গভীরে ১১ জেলে নিয়ে গলাচিপার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন অপর একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৫ জন উদ্ধার হলেও এখনো নিখোজ রয়েছে ৬ জেলে।
এদিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে কুয়াকাটা নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী সমুদ্রের তীরে দুর্গন্ধ অনুভব করে চারপাশে খোঁজাখুঁজি করলে দেখতে পায় একটি মরদেহ ভেসে আসছে। পরে তারা দ্রুত নৌ পুলিশকে খবর দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, “আমরা কাজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলাম। হঠাৎ দুর্গন্ধ পেয়ে চারদিকে তাকিয়ে দেখি সমুদ্র থেকে একটি মরদেহ ভেসে আসছে। তখনই আমরা নৌ পুলিশকে খবর দেই।” তিনি আরও জানান, মরদেহটি বেশ কয়েকদিন পানিতে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তারস পরনে একটি কালো প্যান্ট ও গেঞ্জি ছিল। গেঞ্জিতে বাংলাদেশ ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর লেখা রয়েছে।
কুয়াকাটা নৌ পুলিশের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া কোনো জেলের মরদেহ এটি। তিনি আরও বলেন, “খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্ভাব্য স্বজনরা আসতে শুরু করেছেন। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ”
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে।