শিরোনাম
◈ মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ◈ রাষ্ট্রপতি কার্যালয়সহ ৩ সচিব পদে রদবদল ◈ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি: ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ পারেদেস, আর ৭ ম্যাচ মোলিনা ◈ নতুন পাঁচজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব ◈ ইতালির তৃতীয় বিভাগ ক্লাব রাভেনা এফসির অংশীদার হলেন রোনালদিনহো ◈ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ◈ ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ আজ: বঙ্গভবনে অতিথিদের ভিড়, জোরদার নিরাপত্তা ◈ ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন কঠিন, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি তরুণদের স্বপ্ন ◈ বিমান থেকে সরানো হচ্ছে আফরোজাকে, পাচ্ছেন যে মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল
আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাঁজা বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন, প্রমাণ হলে চাকরি ছেড়ে দিব : ওসি বারী

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার (কুমিল্লা) দাউদকান্দি : কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারীকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্স, কুমিল্লায় সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি এমএ বারীকে পুলিশ লাইন্স, কুমিল্লায় সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।

দাউদকান্দি মডেল থানায় প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পরই তাকে প্রত্যাহার করায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে, দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জব্দকৃত ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওসি এমএ বারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং অফিস আদেশেও এমন কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

জানা যায়, প্রথমে দেশের শীর্ষ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে একই দিনে দাউদকান্দি মডেল থানার দুই দারোগা এসআই ইমাম হোসেন ও এএসআই হাফিজুর রহমান গাঁজা বিক্রির বিষয় নিয়ে চারটি নিউজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে দুই দারোগার ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় আলোচনায় আনেন। এতে ওসি এম এ বারী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় ওসিকে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন প্রশ্নবাণে জর্জরিত করলে পরে এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার অনলাইনে নিউজ করে, দাউদকান্দিতে গাঁজা বিক্রি করায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় তোপের মুখে পড়েন ওসি'।

পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনে দাবি করা হয়েছে যে,  মাদকের বিষয়ে নিউজ হওয়াতে ওসি এমএ বারীকে ক্লোজ করা হয়েছে। এ  বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের  উচ্চপদস্থ কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে পুলিশ সুপার অফিসের আদেশ নথিপত্রে দেখা যায় স্মারক নং : ১০১০(২৭)  এবং এটি গোপনীয়।

ধারনা করা হচ্ছে, পুলিশের গোপনীয় শাখায় ভুক্তভোগীদের কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে মডেল থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

ওসি এমএ বারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

তিনি বলেন, "দাউদকান্দি মডেল থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দেব। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ নিয়ে কর্মস্থল ছাড়ছি না। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেই আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।"

এ বিষয়ে আলোচিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা—এসআই ইমাম হোসেন ও এএসআই হাফিজুর রহমানও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এসআই ইমাম হোসেন বলেন, "১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।"

একই বক্তব্য দিয়ে এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।"

এ বিষয়ে দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার(এএসপি) মো. খলিলুর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পুলিশ প্রশাসনে প্রশাসনিক প্রয়োজনে কর্মকর্তা বদলি, সংযুক্তি (ক্লোজড) ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে ওসি এমএ বারীকে প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়