হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ শেখ (২৪) ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের রফিক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের (২২) বাড়িও একই এলাকায়। তবে কয়েক মাস ধরে তারা হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে তারা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলছিল। রোববার রাতেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এরই জেরে সোমবার সকালে হানিফ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হানিফের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”