শিরোনাম
◈ ‘ডিবির হেফাজতে’ ছাত্রলীগ কর্মীর মারা যাওয়া ভিডিও ভাইরাল, কী ঘটেছিল? যা জানাগেল ◈ দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ভারতের ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত (ভিডিও) ◈ চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণা: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ◈ মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ◈ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: রয়টার্স ◈ যশোরে ২ কোটি ২২ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক ◈ রাতে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন-র‌্যালি না করার নির্দেশ ◈ সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নির্মাণ শেষ হতেই ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই দেবে গেছে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ। ধারাবাহিকভাবে সূতি নদীতে ধসে যাচ্ছে সড়কটি। ভেঙে যাচ্ছে নদীর তীরে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো। কাজে ব্যাপক নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিলেও তাদের জামানতের টাকা দিয়ে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

উপজেলাবাসীর জেলা সদরের সাথে সহজ যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৪ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ৫ বছর পর ২০২৬ সালে তা শেষ হয়।

সূতি নদী ঘেঁষে যাওয়া এই সড়কের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বিশাল একটি অংশ ইতোমধ্যে দেবে গেছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালুর বস্তা দিয়ে জোড়াতালি দিলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। দেবে যাওয়া অংশটি সরু হয়ে পড়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। যেকোনো সময় সড়কটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। এর মধ্যেই হঠাৎ সড়কটি দেবে গেছে। নদীর তীর কোনো রকমে বালু ও মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি ঠিকমতো না বসায় সড়ক ধসে পড়ছে।’

চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, ‘কাজের শুরুতেই আমরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলাম। ব্লকগুলো ভিট বালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয়দের হুমকি দেয়। ভয়ে পরে আর কেউ কথা বলেনি।’

আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘৫ বছর ধরে কাজ করে যদি কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক ধসে যায়, তবে বুঝতে হবে কাজে কত বড় অনিয়ম হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল তুলে নিলেও আমাদের জামানত দুই বছর জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেব, তাতে সমস্যা কোথায়?’

‘পাকা সড়ক বারবার ভাঙবে আর জোড়াতালি দেবেন, এটা কি সঠিক পদ্ধতি?’ এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সড়ক দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকালে এখন কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও তাদের জামানতের ১০ শতাংশ (প্রায় ১ কোটি টাকা) আমাদের কাছে জমা রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে মেরামত করা হবে।’

কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: সময় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়