শিরোনাম
◈ সৌদি আরবে মক্কার মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ◈ বিদেশে ইউনূস-আখতার-বাঁধনসহ বাংলাদেশিদের হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে দূতাবাসের ভূমিকা ◈ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ ◈ ভিউ-লাইক আর টাকার লোভে অন্যকে অপমান, বিবেক কোথায় আমাদের? এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন চৌধুরী ◈ পশু জবাই নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি, দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের ◈ হালান্ডের রেকর্ডের রাতেও ইতিহাদে পিএসজির জয় ◈ এক পদে দুই বেতন, ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ◈ নারীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে আফগান লিগ ছাড়লেন তিন ইংলিশ ক্রিকেটার ◈ ধরা পড়ে কিশোররা, আড়ালে থেকে যায় ‘বড়ভাইয়েরা’: অপরাধ থামবে কীভাবে ?

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নির্মাণ শেষ হতেই ধসে পড়ল ৯ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই দেবে গেছে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ। ধারাবাহিকভাবে সূতি নদীতে ধসে যাচ্ছে সড়কটি। ভেঙে যাচ্ছে নদীর তীরে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো। কাজে ব্যাপক নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিলেও তাদের জামানতের টাকা দিয়ে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

উপজেলাবাসীর জেলা সদরের সাথে সহজ যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৪ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ৫ বছর পর ২০২৬ সালে তা শেষ হয়।

সূতি নদী ঘেঁষে যাওয়া এই সড়কের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বিশাল একটি অংশ ইতোমধ্যে দেবে গেছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালুর বস্তা দিয়ে জোড়াতালি দিলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। দেবে যাওয়া অংশটি সরু হয়ে পড়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। যেকোনো সময় সড়কটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

Advertisement

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। এর মধ্যেই হঠাৎ সড়কটি দেবে গেছে। নদীর তীর কোনো রকমে বালু ও মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে কাজ শুরু করা হয়েছিল। মাটি ঠিকমতো না বসায় সড়ক ধসে পড়ছে।’

চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, ‘কাজের শুরুতেই আমরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলাম। ব্লকগুলো ভিট বালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজন স্থানীয়দের হুমকি দেয়। ভয়ে পরে আর কেউ কথা বলেনি।’

আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘৫ বছর ধরে কাজ করে যদি কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক ধসে যায়, তবে বুঝতে হবে কাজে কত বড় অনিয়ম হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল তুলে নিলেও আমাদের জামানত দুই বছর জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেব, তাতে সমস্যা কোথায়?’

‘পাকা সড়ক বারবার ভাঙবে আর জোড়াতালি দেবেন, এটা কি সঠিক পদ্ধতি?’ এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সড়ক দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকালে এখন কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও তাদের জামানতের ১০ শতাংশ (প্রায় ১ কোটি টাকা) আমাদের কাছে জমা রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে মেরামত করা হবে।’

কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: সময়