হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ এবং এক পরীক্ষার্থীকে সহায়তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধর ও প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগে এনসিপি নেতা মো. আশরাফ শেখ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তিনি একটি পরীক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ জানালে আশরাফ শেখ নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন। এতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্রের বাইরে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরে আশরাফ শেখকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তিনি দৌঁড়ে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন। সেখানে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে গেলে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত, কয়েকজন শিক্ষক, পরীক্ষার্থী এবং এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ আহত হন। আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ইটের আঘাত পান।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা আশরাফ শেখকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশরাফ শেখের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে ইটের আঘাতে আমি ও আরও কয়েকজন আহত হই। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আশরাফ শেখকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাকে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখ বলেন, “আমার স্ত্রীকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ইভটিজিং করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা চালায় এবং আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।”