স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন একই অফিসের উচ্চমান সহকারী তাজমিন আক্তার। এ ঘটনায় তাজমিন আক্তারের কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পরে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ মে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন এবং কথা না শুনলে বদলির হুমকি দেন বলে দাবি করেন তাজমিন আক্তার।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, তাজমিন আক্তার তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে একটি টেন্ডারের উইনারশিট দেখতে চান। তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে তাজমিন উত্তেজিত হয়ে গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাজমিন তার স্বামীসহ কয়েকজন স্বজনকে অফিসে ডাকেন বলেও জানান আবুল খায়ের।
অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার সময় তাজমিন আক্তার উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ফোন করে স্বজনদের অফিসে আসতে বলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা কোনো ধরনের শারীরিক নিপীড়নের ঘটনা দেখেননি। তাদের দাবি, অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কয়েকজন কর্মকর্তা ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলাম। ফিজিক্যাল হ্যারেজমেন্টের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তিনি উত্তেজিত আচরণ করে রুম থেকে বেরিয়ে যান।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে সেখানে সদস্য পাঠানো হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরুতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।