শিরোনাম
◈ যে ৫ কারণে কুরবানির চামড়ার বাজারে ধস! ◈ ফরিদপুরে দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর ◈ পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি দাম নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার ◈ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না পাকিস্তান, ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান খাজা আসিফের ◈ স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ◈ ইরানে আবারও হামলা শুরু, যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ ও লিভ-ইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব! ◈ ঈদের আগে ভারতে নতুন বিতর্ক: গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবিতে মুসলিম আলেম-সংগঠনগুলো ◈ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ◈ ঈদযাত্রায় সায়েদাবাদে তীব্র যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ঘরমুখো মানুষ

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬, ০৮:৩২ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, চাহিদা বেশি মাঝারি-ছোট গরুর

অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সরগরম কোরবানির পশুর হাটগুলো। পশুর সমাগমে উপচে পড়ছে বিভিন্ন হাট। পছন্দমতো পশু কিনতে ক্রেতারা যেমন ভিড় জমাচ্ছেন হাটগুলোতে, তেমনি বিক্রেতা আর বেপারিদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই। পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, শেষ সময়ে এসে বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি করে আসা গরুতে ছেয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলো। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের পটিয়া, হাটহাজারী, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ স্থানীয়  বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর গরু এসেছে। এছাড়া প্রতিবছরের মতো যশোর, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, পাবনা, ঈশরদী, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, মাগুরা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, রাজবাড়িসহ উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু এসেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশেও বসেছে ছোট ছোট পশুর বাজার। সেখানে দেশি জাতের গরুর সংখ্যাই বেশি। আকারে ছোট এসব গরুর চাহিদাও বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ এখন ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশি গরু। গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম ও লালন-পালন খরচ বাড়ার কারণে এসব পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে অতিরিক্ত বাজেট এড়াতে ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে থাকা ছোট গরুতেই বেশি ঝুঁকছেন। নগরীর প্রতিষ্ঠিত হাটগুলোতে বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় গরু এনেছেন বেপারিরা। এছাড়া বিভিন্ন পশুর হাটে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুও প্রচুর আনা হয়েছে। ভারতীয় গরুর প্রবেশ কম থাকায় স্বস্তি অনুভব করছেন দেশীয় খামারিরা। গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন হাটে ছাগল, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। বিভিন্ন গরুর হাটে ১০ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ দামের গরুও আনা হয়েছে। এগুলোর বাহারি নাম দিয়ে চলছে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা।  

এদিকে বাজারে গরুর দাম বেশি- ক্রেতারা এমন অভিযোগ করলেও গো-খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বেশি দাম রাখতে হচ্ছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। বিক্রেতারা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার চাপ বেড়েছে। তবে হাটগুলোতে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর গরু আসায় সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিবিরহাটে নাছিরউদ্দিন নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট আকারের গরু কিনতে এসেছি। কিন্তু ছোট গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। তাই দামের কারণে আরও কয়েকটি হাটে ঘুরে সিদ্ধান্ত নেব।

ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলছেন, মঙ্গলবার থেকে হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে থাকা গরুগুলোর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। মধ্যবিত্তরা ১ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে গরু চান। অপেক্ষাকৃত কম সামর্থ্যবানরা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যেও গরু খুঁজেন। এ দামের মধ্যে গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ২ বা আড়াই লাখের বেশি টাকার মধ্যে বড় গরু দামাদামি করার মতো ক্রেতা খুব কম। তবে এদামের মধ্যেও বিক্রি যে হচ্ছে না তা নয়।

নূরনগর হাউজিং এস্টেট মাঠে কুষ্টিয়া থেকে আসা করিম নামের এক খামারি বলেন, হাটে ছোট বা মাঝারি গরুর চাহিদা লক্ষ্য করছি। কিন্তু বড় গরুর আশানুরূপ দাম এখনো ওঠেনি। এখন পুরোদমে বিক্রি শুরু হওয়ায় বড় গরুগুলোর ভালো দাম পাব বলে আশা করছি।

এদিকে অতিরিক্ত হাসিল, হাটের ভিড় ও দালালের উৎপাত এড়াতে সরাসরি খামার বা ডেইরি ফার্ম থেকে পশু কিনছেন অনেকে। খামারগুলোতে ওজনে গরু বিক্রি হওয়ায় প্রতারিত হওয়ার ভয় থেকে মুক্ত থাকা যায়- এমনটা জানিয়েছেন ক্রেতারা।

এদিকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে গবাদিপশুর স্থানীয় উৎপাদন। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ বছর জেলায় স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ হাজার ৫৩৪টি কম। এছাড়া গত বছর ছাগলের সংখ্যা ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি থাকলেও এ বছর উৎপাদন কমে হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি। মহিষ গত বছর ৬৪ হাজার ১৬৩টি উৎপাদন হলেও এবছর হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টি। একইভাবে গত বছর ভেড়ার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬৯৭টি থাকলেও এবছর কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টি।  

তবে চট্টগ্রামে কোরবানিতে এবারও পশু সংকট হবে না জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর ‘আমাদেরসময়ডটকম’কে বলেন, অন্যান্য জেলায় উৎপাদন ভালো হওয়ায় ওইসব এলাকা থেকে আসা গবাদিপশু দিয়ে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটে আরও উদ্বৃত্ত থাকবে। তাছাড়া এবার চট্টগ্রামে কোরবানির চাহিদাও কম থাকায় সমস্যা হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রমতে, কোরবান উপলক্ষে নগরে ও উপজেলায় স্থায়ী ১৭০টি বাজার বসেছে। নগরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ৩টি স্থায়ী ও ৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে- সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে- মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গা, কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডস্থ সিডিএ বালুর মাঠ, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ ও ৪১ নং ওয়ার্ডের আলমগীরের বালির মাঠ ও ২৬ ওয়ার্ডের উত্তর হালিশহর গলাচিপাপাড়া বারুনিঘাট মাঠ।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে নগরের পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, প্রতারণা কিংবা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়