সরকারি অর্থায়নে দেশে দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনের কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। সোমবার ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ স্থাপনের নথিপত্র তৈরি, টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু এবং অন্যান্য কাজ দেখাশোনার জন্য পরামর্শ নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি।
৪২ দিনের মধ্যে আগ্রহী আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগ্রহী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২-এর দরপত্র আহ্বান করতে আরও ৬ মাসের বেশি লাগবে।
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থে দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসাবে পরামর্শক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর সব চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একনেকে ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। কিন্তু অর্থ যোগের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয় রিফাইনারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেননা দেশের একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারি চালু হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। যার বয়স হয়েছে ৬০ বছরের মতো। এই রিফাইনারির কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের ক্রুড ছাড়া অন্য কোনো অঞ্চলের ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল এখানে শোধন করা যায় না।
বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি হবে অনেক আধুনিক। ইউরো-৫ মডেলের এই রিফাইনারিতে পরিশোধন করে তুলনামূলকভাবে অনেক কম দূষণকারী জ্বালানি তেল এখান থেকে সরবরাহ করা যাবে। এর ক্ষমতা থাকবে বছরে ৩০ লাখ টন। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্ষমতা বছরে ১২ লাখ টন। ইস্টার্ন রিফাইনারি-২-এ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও আফ্রিকা, ইরান, আলজেরিয়া, নরওয়ে ও রাশিয়ার ক্রুড ব্যবহার করা যাবে। এ রিফাইনারির মূল পার্টস বা মেশিন থাকবে ইউরোপ ও আমেরিকার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ রিফাইনারির জন্য বিনিয়োগের অর্থের (৩১ হাজার কোটি টাকা) ৬০ শতাংশ দেবে সরকার এবং বাকি ৪০ শতাংশ দেবে বিপিসি। তবে সমস্যা হচ্ছে এই রিফাইনারি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পুরো টাকার সংস্থান এখনো হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগকারী বা সংস্থার কাছ থেকে এই অর্থ লগ্নি করতে চেষ্টা করছে জ্বালানি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, একাধিক দাতা সংস্থা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কিছু হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ চালু করতে চায়।
সূত্র: যুগান্তর