এন এ মুরাদ, মুরাদনগর: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রৌশন সাদিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে মুরাদনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে দৈনিক যুগান্তরের মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জালাল আহমেদ সাব-রেজিস্ট্রার রৌশন সাদিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকেলে সাংবাদিক জালাল আহমেদ একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে মুরাদনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান।
এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার তার অধীনস্থ দলিল লেখকদের একত্রিত করেন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা দলিল কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। এ সময় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার ও আইজিআর (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন) বরাবর লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারের আচরণের প্রতিকার এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে মঙ্গলবার আইজিআরের নির্দেশে সাব-রেজিস্ট্রার রৌশন সাদিয়াকে মুরাদনগর উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে।
কুমিল্লার গুনবতী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। যুগান্তর কুমিল্লা ব্যুরো আবুল খায়ের ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি মুরাদনগর উপজেলা সভাপতি এন এ মুরাদ।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।