চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী চৌকাপাড়ার মহল্লার একটি বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- বাড়ির মালিক মো. রুবেল হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রী সুমি বেগম। পুলিশ বলছে, বাড়িতে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি লাশ থাকার বিষয়টি সুমি বেগমের স্বামী রুবেল নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে জানান। খবর পেয়ে উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী চৌকাপাড়ার মহল্লার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগম (৫৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাসায় বাসায় গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। সোমবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, লাশের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার কান ছিঁড়ে সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি স্থানীয় এক স্বর্ণকারের দোকানে বিক্রি করা হয়। দুপুরে তা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কানের দুলের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার বোন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতেন। সোমবার সকালে বোন প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। স্বামীর সঙ্গে দুপুর ১২টার দিকে শেষ কথা হয়। ফোনে তিনি তখন জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরে রান্না করবেন। এরপর তাকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে থানায় জিডি করতে গেলে শুধু নাম-ঠিকানা নেওয়া হয়, কিন্তু জিডি গ্রহণ করা হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, নিহত মরিয়ম বেগমের কান থেকে ছিঁড়ে নেওয়া সোনার এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক সুমি বেগম স্বীকার করেছেন, দুল জোড়া ওই এলাকার একটি স্বর্ণকারের দোকানে ১২ হাজার টাকায় সোমবার দুপুরে বিক্রি করেছিলেন। স্বর্ণকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কানের দুলের জন্য সুমি বেগম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
মরিয়ম বেগমের ছেলে মারুফ হোসেন বনি জানান, সোমবার রাত পর্যন্ত মাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি রুবেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় রুবেল ও সুমি তাকে জানিয়েছিলেন প্রাইভেট পড়ানো শেষ করে তার মা অনেক আগেই চলে গেছেন। অথচ মাকে হত্যা করে লাশ ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন তারা।